নীলফামারী প্রতিনিধি: স্কুলজীবনের সেই সোনালী আড্ডা, মাঠের খুনসুটি আর কৈশোরের দুরন্ত দিনগুলো পেরিয়ে সময়ের ব্যবধানে জীবনের প্রয়োজনে সবাই ছড়িয়ে পড়েছিলেন নানা প্রান্তে। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে জীবন বদলে গেলেও একটুও ম্লান হয়নি বন্ধুত্বের নিখাদ টান। আর সেই অটুট টানেই দীর্ঘ দুই দশক পর আবারও এক ছাতার নিচে মিলিত হলেন এসএসসি ২০০৫ ব্যাচের চার শতাধিক বন্ধু।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নীলফামারী জেলা স্টেডিয়াম চত্বরে বসেছিল এই বন্ধুদের এক বর্ণিল ও প্রাণের মিলনমেলা।
‘এসএসসি ব্যাচ ২০০৫, নীলফামারী’র বন্ধুদের উদ্যোগে আয়োজিত এই জমজমাট পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও রাজধানী থেকে ছুটে আসেন বন্ধুরা। দিনব্যাপী এই আনন্দ আয়োজনে ছিল বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি, বিভিন্ন ধরনের ইনডোর-আউটডোর খেলাধুলা, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ফেলে আসা স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণ পর্ব। দীর্ঘ ২১ বছর পর একে অপরকে বুকে জড়িয়ে ধরে আবেগ-উচ্ছ্বাসে আপ্লুত হয়ে পড়েন বন্ধুরা; সবাই যেন ফিরে গিয়েছিলেন কৈশোরের সেই দুরন্ত দিনগুলোতে।
শুধু নিজেদের পুনর্মিলনই নয়, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা বন্ধুদের কাছে নীলফামারীর সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। জেলার বিখ্যাত পর্যটনস্থল নীলসাগর, সৈয়দপুরের ঐতিহাসিক চিনি মসজিদ, তিস্তা ব্যারাজ ও ঐতিহ্যবাহী রেলওয়ে কারখানার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তায় মুগ্ধ হন আগত অতিথিরা।
আয়োজকরা জানান, দীর্ঘ ২১ বছর পর বন্ধুদের একত্রিত করার মূল লক্ষ্য ছিল পুরোনো সোনালী স্মৃতিকে নতুন করে জাগিয়ে তোলা, পারস্পরিক বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করা এবং প্রাত্যহিক জীবনের ব্যস্ততার মাঝে কিছুটা সময় একসঙ্গে কাটিয়ে শৈশবের আনন্দ উপভোগ করা। একই সঙ্গে এই আয়োজনের মাধ্যমে নীলকণ্ঠী জনপদ নীলফামারীর সৌন্দর্য ও সম্ভাবনাকেও সবার সামনে নতুন করে তুলে ধরতে চেয়েছেন তারা।
দীর্ঘ বিরতির পর এমন ব্যতিক্রমী মিলনমেলায় অংশ নিতে পেরে গভীর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন বন্ধুরা। সবার একটাই প্রত্যাশা, এই এক দিনের আনন্দঘন আয়োজন শুধু স্মৃতির পাতায় সীমাবদ্ধ না থেকে আগামী দিনগুলোতেও বন্ধুত্বের এই বন্ধনকে আরও বেশি অটুট রাখবে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি