জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে বারবার আলোচনা, একের পর এক কূটনৈতিক উদ্যোগ। কিন্তু কোনোটিই এখন পর্যন্ত আনতে পারেনি কার্যকর সমাধান।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে নেতানিয়াহুও। আর এই দুই নেতার ভাগ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ।
প্রশ্ন হচ্ছে, এই দুই দেশের নির্বাচনী ফলাফল কি বদলে দিতে পারে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের গতিপথ? নাকি নতুন নেতৃত্ব এলেও সংঘাত থামার কোনো সম্ভাবনা নেই?
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন আর ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে চলছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং জনমনে অসন্তোষ ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি করছে। তাই নির্বাচনের আগে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চাইছে ওয়াশিংটন বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে ইরানও এই সুযোগ কাজে লাগাতে চায়। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ ফেরত এবং হরমুজ প্রণালির ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা—এসব শর্ত সামনে রেখেছে তেহরান।
এদিকে ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহু কিংবা বিরোধী জোট কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে নতুন সরকার গঠন নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
কিন্তু নেতৃত্ব বদলালেই কি বদলাবে ইরানবিরোধী নীতি? বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে নিরাপত্তার বড় হুমকি হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য নেই।
অন্যদিকে ইরানও সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা যেকোনো হুমকির তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে নির্বাচন যুদ্ধের কৌশল বদলাতে পারে, কিন্তু যুদ্ধ বন্ধের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। কারণ হরমুজ প্রণালি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তিন দেশের বিরোধ এখনো গভীর।
তাই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—রাজনৈতিক নেতৃত্ব বদলাবে, কিন্তু ইরান যুদ্ধের পরিণতি কি বদলাবে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি