মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্লাস্টিক ও আধুনিক পণ্যের দাপটেও নিজের ঐতিহ্য টিকিয়ে রেখেছে বাঁশের টুকরি, কুলা, ডালাসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাঁশ-বেতের পণ্যগুলো আশঙ্কাজনকভাবে হারিয়ে গেলেও শ্রীমঙ্গল শহরে হস্তশিল্পের কিছু পণ্য এখনও পাওয়া যায়। তবে উপকরণ ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে হাজার বছরের এই শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে।
জানা যায়, একটা সময় মৌলভীবাজারের গ্রাম-গঞ্জের বাজার থেকে শহরে প্রচুর পরিমাণ বাঁশ-বেতের পণ্য দেখা যেত। বিশেষ করে বাঁশের টুকরি, কুলা, ডালা, ছাতা। মাছ শিকার, কৃষিকাজসহ গৃহস্থালির বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হতো এসব ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প। তবে আধুনিক প্লাস্টিকজাত পণ্যের বাজারে হারিয়ে যাচ্ছে শিল্পগুলো।
তবে এখনো হাজার হাজার পণ্যের মাঝে কয়েকটি দোকানে বাঁশ বেতের বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প দেখা যায়। ৮০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা পর্যন্ত এসব বাঁশের পণ্যের দাম রাখা হয়। বিভিন্ন জায়গা থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে বাঁশের পণ্যগুলো তৈরি করা হয়।
বাঁশের হস্তশিল্প বিক্রেতারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এসব বাঁশের পণ্য বিক্রি করছি। একটা সময় কৃষকরা বাড়িতে তৈরি করে বাজারে বিক্রি করতেন বাঁশের পণ্য। তবে প্লাস্টিক পণ্যের আধিপত্যে এই শিল্প হারিয়ে গেছে। শ্রম অনুযায়ী বাজারে সঠিক মূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা এই শিল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। আমরা ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য এই ব্যবসা করে আসছি।
জমির উল্যা নামে এক প্রবীণ কৃষক বলেন, আমি বাল্যকাল থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত কৃষি কাজের পাশাপাশি বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে বিক্রি করতাম। তবে গত এক দশক ধরে এগুলো আর তৈরি করি না। আগে মানুষেরা চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরির জন্য অগ্রিম বলে রাখতো। তবে আস্তে আস্তে প্লাস্টিক পণ্য বাঁশের হস্তশিল্পকে গিলে ফেলেছে।
হারুন মিয়া নামে এক ক্রেতা বলেন, কয়েকদিন পর আমন ধান ঘরে তুলবো। এজন্য কয়েকটি টুকরি ও কুলা কিনতে এলাম। আগে আমরা বাড়িতে বসে এগুলো তৈরি করতাম, তবে বাঁশের অভাবে আর বানানো হয় না। বাজারে এখন চাহিদা অনুযায়ী পাওয়াও যায় না।
শ্রীমঙ্গল শহরের অজিৎ কুণ্ড কুটির শিল্পের পরিচালক অভিজিৎ কুণ্ড দিপ বলেন, আমাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা করে আসছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শিল্প হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা এই শিল্পটি ধরে রেখেছি। বাজারে চাহিদা আছে তবে বিভিন্ন কারণে এসব পণ্য তৈরি করা যাচ্ছে না। প্লাস্টিক পণ্যের আধিপত্যে একটা সময় হয়ত এই শিল্প হারিয়ে যাবে।
মৌলভীবাজার বিসিক জেলা কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক (অ. দা.) মোছাদ্দেক হোসেন সুজন বলেন, যারা কুটিরশিল্প বা হস্তশিল্প নিয়ে কাজ করতে চায় আমরা তাদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব। একইসঙ্গে আমাদের পক্ষ থেকে ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে সহযোগিতা করা হবে। বিশেষ করে টাকার অভাবে অনেকেই এগিয়ে আসতে চান না। তাদের জন্য ৫ শতাংশ ইন্টারেস্টে একেবারেই সহজে ঋণ দেওয়া হয়।
—জা.অর্থনীতি/এনজে