ফিরোজ শাহ, জামালপুর: শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে জামালপুরে গড়ে তোলা হয়েছে অর্থনৈতিক অঞ্চল। দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা প্রায় ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন। ইতোমধ্যে জমি বরাদ্দের পাশাপাশি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কারখানার অবকাঠামোও তৈরি হয়েছে। তবে গ্যাস সংযোগ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাবে উৎপাদন শুরু করতে পারছেন না উদ্যোক্তারা। এতে বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রত্যাশিত কর্মসংস্থানও আটকে আছে।
জামালপুর সদর উপজেলার দিগপাইত এলাকায় ৪৩৬ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে সরকারি মালিকানাধীন জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল। ময়মনসিংহ বিভাগের প্রথম সরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতে ইতোমধ্যে প্রায় ২০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
কিন্তু জমি বরাদ্দের পর কারখানার অবকাঠামো নির্মাণ এগোলেও গ্যাস সংযোগের অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে যেতে পারছে না। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে এলপিজি ও ব্যাকআপ বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করার চেষ্টা করছেন। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগ কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল, অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু হলে এলাকায় কর্মসংস্থান বাড়বে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে। তবে দীর্ঘদিনেও সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, যে স্বপ্ন দেখিয়ে আমাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল, তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এখানে সবার কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। কয়েকটি কারখানা তৈরি হলেও গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন শুরু হয়নি। ফলে আমাদেরও কর্মসংস্থান হচ্ছে না। অর্থনৈতিক অঞ্চলসংলগ্ন এলাকায় মুদি দোকান চালান মজনু মিয়া। তিনি বলেন, কারখানা চালু হলে শ্রমিক-কর্মচারীদের কারণে বেচাকেনা বাড়বে, এমন আশা ছিল। কিন্তু কারখানার ভবন থাকলেও শ্রমিক নেই। ফলে দোকানেও বেচাকেনা বাড়েনি। দিগপাইত পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মুনসুর আলী বলেন, পরিবারের সদস্যদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির আশায় আমরা জমি দিয়েছিলাম। কিন্তু কারখানা চালু না হওয়ায় কেউ চাকরি পাচ্ছে না।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বেজা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ময়মনসিংহ আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী শেখ মনজুর আহমেদ মুঠোফোনে বলেন, ডলার সংকটের পাশাপাশি বর্তমানে গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় নতুন সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না।
শিল্প উদ্যোক্তাদের মতে, শুধু জমি বরাদ্দ ও অবকাঠামো নির্মাণ করলেই শিল্পায়ন সম্ভব নয়। উৎপাদন সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করা গেলে জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের প্রস্তাব বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি ফিরবে।