রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: আট শতাধিক শিল্পকারখানায় ৩ লাখের অধিক শ্রমিকের কর্মমুখরতায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বর্তমানে কোনো শ্রমিক অসন্তোষ নেই। তবে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং গ্যাস-বিদ্যুতের অতিরিক্ত খরচের মুখে বেতন-ভাতা বাড়ানোর জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের বক্তব্য— সহিংসতা, ভাঙচুর কিংবা অগ্নিসন্ত্রাস নয়, শ্রম বৈষম্য দূর করতে সরকারকেই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সূত্রমতে, সারাদেশে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের উসকানি, কারখানা ভাঙচুর ও রাষ্ট্রের সম্পদ নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। তবে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ছোট বড় কারখানা মিলিয়ে ৮ শতাধিক বহুজাতিক ও দেশীয় শিল্পকারখানা সমৃদ্ধ রূপগঞ্জে চিত্রটি ভিন্ন। এখানে উৎপাদন চাকা সচল রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই কাজ করছেন ৩ লাখের বেশি শ্রমিক।
স্থানীয় শ্রমিকরা জানায়, গার্মেন্টসে কাজ করে একজন নারী পদভেদে ৮ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পায়। এদের মাঝে ৮ হাজার বেতন পাওয়া শ্রমিকের সংসার চালানো আর ২০ হাজার বড় কর্তার সংসার চালানোতে বৈষম্য রয়েছে। এরই মাঝে সরকার সব দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে এ জীবন যাত্রার মানকে নাভিশ্বাসে পরিণত করেছে। তাই অসহায় প্রকাশ ছাড়া উপায় নেই।
এদিকে সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতা তৈরি না করে রূপগঞ্জের শ্রমিকরা তুলে ধরছেন তাদের বাস্তব কষ্ট ও যুক্তিসঙ্গত দাবি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ায় সাধারণ শ্রমিকদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই কোনো ধরনের নাশকতা নয়, শ্রম বৈষম্য দূর করে বেতন পুনর্নির্ধারণে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ চান তারা। ফলে নিয়মিত কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা।
ওয়েস্ট নিট এন্ড ওয়ার রূপগঞ্জের এইচআরএডমিন টিটু রহমান বলেন, কর্ণগোপের কারখানায় ৩ শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন। তারা মালিক পক্ষের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রেখেই কাজ করছেন। তবে উস্কানী থাকা অস্বাভাবিক নয়। সরকারের উচিত সাধারণ মানুষের পন্যমূল্য হাতের নাগালে রাখা।
রূপগঞ্জের ৪ শতাধিক গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিক, মালিক ও প্রশাসনসহ পুলিশের ভূমিকায় শান্তিপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। উস্কানীদাতাদের ফাঁদে পা দিলে কঠোরভাবে তা দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ (গ-সার্কেল) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এএসপি মেহেদী ইসলাম।
তিনি বলেন, উস্কানিমূলক কাজে যেই জড়িত থাকুক না কেনো জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সচেতন মহল মনে করেন, উসকানি এড়িয়ে উৎপাদনে গতি রাখা এই শ্রমিকদের একটাই প্রত্যাশা—মালিক ও সরকারের সদিচ্ছায় দ্রুত সমাধান হোক বেতন ও জীবনযাত্রার এই হিসাব।
—জা. অর্থনীতি/এনজে