Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 05:16 am

কয়েক দিনের মধ্যে ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারেন ট্রাম্প

image

জাতীয় অর্থনীতি আন্তর্জাতিক: ইরানে কয়েক দিনের মধ্যেই পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এমন দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপক টাকার কার্লসন। তার অভিযোগ, ইরানের একটি সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার অনুমোদন দিতে ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

রোববার (০১ নভেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে কার্লসন সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে মধ্য ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এর নাম উল্লেখ করেন। তার দাবি, সেখানে ইরান আবারও পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি শুরু করেছে বলে মনে করছে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা।

কার্লসন একজন রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার। ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি ফক্স নিউজের ‘টাকার কার্লসন টুনাইট’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ছিলেন। বর্তমানে এক্সে নিজের অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন তিনি। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত মন্তব্য করেন।

কার্লসনের দাবি, ওই স্থাপনার ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গগুলো প্রায় ৩০০ ফুট পুরু কঠিন গ্রানাইট পাথরে সুরক্ষিত। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত অস্ত্র দিয়ে সেখানে আঘাত করা সম্ভব নয়। তার মতে, সামরিক পদক্ষেপের একমাত্র বিকল্প হয়ে উঠতে পারে পারমাণবিক হামলা।

কার্লসন এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে বলেন, ‘বিবি (নেতানিয়াহু) এ বিষয়ে প্রতিদিন ট্রাম্পকে ফোন করেন।’

তার দাবি, আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নেতানিয়াহুর চাপের পেছনে রয়েছে নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা। সর্বশেষ নির্বাচনের পর ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন নেতানিয়াহুর। তা না হলে তিনি ক্ষমতা হারাতে পারেন এবং তদন্ত ও কারাদণ্ডের মুখে পড়তে পারেন বলে দাবি করেন কার্লসন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ওপর চাপ দিচ্ছেন নেতানিয়াহু।

কার্লসনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফও নেতানিয়াহুর সঙ্গে একমত। এ ছাড়া দোহায় যে ইরান শান্তিচুক্তির খসড়া তৈরি হচ্ছে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও তার বিরোধিতা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

—জা.অর্থনীতি/জেআরটি