জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: ২০২৬ সাল কি ভাঙতে যাচ্ছে বিশ্বের তাপমাত্রার সব রেকর্ড? প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী হয়ে উঠছে এল নিনো, যা বাড়িয়ে দিতে পারে বৈশ্বিক তাপমাত্রা! জলবায়ু পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, চলতি বছর উষ্ণতার নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে, এমনকি ২০২৭ সালেও! কিন্তু কতটা শক্তিশালী এই এল নিনো, আর কেন বাড়ছে উদ্বেগ?
বিশ্বের ইতিহাসে উষ্ণতম বছর হয়ে উঠতে পারে ২০২৬ সাল! প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী হয়ে ওঠা ‘সুপার এল নিনো’ র প্রভাবে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপার্নিকাসের পরিচালক কার্লো বুয়োনতেম্পো।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, অতীতের এল নিনোর ধরন অনুসরণ করলে ২০২৬ সালে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড হতে পারে। এমনকি ২০২৭ সালেও নতুন রেকর্ড হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্রের উষ্ণ পর্যায়। এ সময় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। এর ফলে, আবহাওয়ার ধরনে পরিবর্তন আসে এবং খরা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। একইসঙ্গে মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবও আরও তীব্র হতে পারে।
কোপার্নিকাসের তথ্য অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরের এল নিনো পর্যবেক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল নিনো ৩.৪ এ গত সেপ্টেম্বরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২৯ দশমিক ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। ওই অঞ্চলে এটি সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড। এর আগে, ১৯৮২-৮৩, ১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬ সালের শক্তিশালী এল নিনো পর্বেও এত বেশি তাপমাত্রা দেখা যায়নি। চলতি বছরের জুনে এল নিনোর বর্তমান পর্ব শুরু হয়। তবে, এটিই ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো কি না, তা বলার সময় এখনো আসেনি বলে জানিয়েছেন বুয়োনতেম্পো। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় বর্তমান এল নিনোর সঙ্গে অতীতের ঘটনাগুলোর তুলনা করা কঠিন হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, সম্প্রতি জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, এল নিনো পরিস্থিতি রেকর্ডে থাকা সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছেছে। তবে, বিভিন্ন পূর্বাভাসদাতা সংস্থা এল নিনোর তীব্রতা নির্ধারণে একই ধরনের সূচক ব্যবহার করে না।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি