জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: বেতন তো একই পাচ্ছেন, কিন্তু সহকর্মীর ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স বাড়ছে আর আপনার পকেট মাস শেষে ফাঁকা? সত্যিটা হলো, টাকা বেশি জমানোর জন্য আয় বাড়ানো জরুরি নয়, চাই স্রেফ একটা সঠিক মানসিকতা!
আমরা অনেকেই ভাবি, আয় না বাড়লে বুঝি সঞ্চয় করা সম্ভব নয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, উপার্জন দ্বিগুণ হলেও মানুষের খরচের হাত সেই অনুপাতে বেড়ে যায়। ফলে দিনশেষে সেই শূন্য ব্যালেন্সেই থমকে থাকতে হয়। তবে আয়ের পরিমাণ এক রেখেও মাস শেষে হাতে অতিরিক্ত টাকা রাখার কিছু চমৎকার ও প্রমাণিত কৌশল রয়েছে।
প্রথম এবং সবচেয়ে কার্যকারী কৌশলটি হলো 'পে ইউরসেলফ ফার্স্ট' বা নিজেকে আগে পরিশোধ করা। সাধারণ মানুষ মাস শেষে খরচ করার পর যা বাঁচে তা জমানোর চেষ্টা করে, আর বুদ্ধিমানেরা আয়ের সাথে সাথেই নির্দিষ্ট একটি অংশ সঞ্চয়ে পাঠিয়ে দিয়ে বাকি টাকায় মাস চালায়। বেতন পাওয়ার দিনই অন্তত ১০ থেকে ২০ শতাংশ টাকা আলাদা একটি অ্যাকাউন্টে সরিয়ে ফেলুন।
দ্বিতীয়ত, 'মাইন্ডফুল স্পেন্ডিং' বা সচেতন খরচ। কেনাকাটা করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন—জিনিসটি কি সত্যিই আমার প্রয়োজন, নাকি স্রেফ সাময়িক ভালো লাগা বা সমাজকে দেখানোর জন্য কিনছি? এই একটি প্রশ্ন আপনাকে অপ্রয়োজনীয় অনেক বড় খরচের হাত থেকে রক্ষা করবে।
তৃতীয় কৌশল হলো বাজেটিংয়ের ৫০-৩০-২০ নিয়ম মেনে চলা। আপনার মোট আয়ের ৫০ শতাংশ রাখুন মৌলিক প্রয়োজন যেমন বাড়ি ভাড়া, বাজার ও বিলের জন্য; ৩০ শতাংশ রাখুন বিনোদন বা ইচ্ছাপূরণের জন্য এবং ২০ শতাংশ রাখুন সরাসরি সঞ্চয় ও বিনিয়োগের জন্য।
চতুর্থত, ছোট ছোট অভ্যাসের পরিবর্তন। প্রতিদিন বাইরের নামি ক্যাফের কফি বা রেস্তোরাঁর খাবার, অপ্রয়োজনীয় রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহার—এই আপাত ক্ষুদ্র খরচগুলো মাস শেষে বিশাল এক অংকে গিয়ে দাঁড়ায়। গৃহস্থালি খরচে ছোট ছোট বাজেট ট্র্যাকিং অ্যাপ ব্যবহার করলে কোথায় টাকা বেশি গলে যাচ্ছে তা সহজে ধরা পড়ে।
পঞ্চম বিষয়টি হলো ইমার্জেন্সি ফান্ড তৈরি করা। হঠাৎ কোনো অসুস্থতা বা অপ্রয়োজনীয় বিপদে যেন মূল সঞ্চয়ে হাত দিতে না হয়, তাই আগে থেকেই ৩ থেকে ৬ মাসের খরচের সমপরিমাণ টাকা আলাদা করে রাখুন।
আয় একই থাকলেও সামান্য এই ডিসিপ্লিন বা শৃঙ্খলা আপনার মাস শেষের আর্থিক চাপ এক ধাক্কায় কমিয়ে দেবে।
একই বেতন পেয়েও বন্ধু সঞ্চয় করছে আর আপনার পকেট খালি? আয় না বাড়িয়েও মাস শেষে টাকা ধরে রাখার গোপন মন্ত্র জানেন? বেতন পাওয়ার সাথে সাথেই খরচের আগে ২০% টাকা সঞ্চয়ের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিন। আর যেকোনো কিছু কেনার আগে ভাবুন—এটা কি 'প্রয়োজন' নাকি স্রেফ 'বিলাসিতা'? এই সহজ ডিসিপ্লিন মেনে চললেই আয়ের পরিমাণ না বাড়িয়েও মাস শেষে আপনার হাতে থাকবে বাড়তি টাকা!
—জা. অর্থনীতি/এলএটি