Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 02:41 am

ঋণমুক্তির জন্য নবীজির শেখানো দোয়া (ভিডিও)

image

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: বিপদে পড়েছেন, ঋণের চাপে দিশেহারা, এমন সময়ে আল্লাহর কাছে কী দোয়া করবেন? কোরআনে এমন কিছু দোয়া রয়েছে, যেগুলো বিপদ, দুশ্চিন্তা ও অসহায়ত্বের সময়ে মুমিনদের জন্য বড় আশ্রয় হতে পারে। এর মধ্যে হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের একটি দোয়া বিশেষভাবে পরিচিত। তবে ঋণমুক্তির জন্য সরাসরি শেখানো একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়াও রয়েছে হাদিসে। তাহলে বিপদ থেকে মুক্তি ও ঋণের বোঝা কমানোর জন্য কোন দোয়াগুলো পড়তে পারেন?

জীবনে বিপদ আসতেই পারে। কখনো আর্থিক সংকট, কখনো ঋণের চাপ, আবার কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যখন মানুষ নিজেকে সম্পূর্ণ অসহায় মনে করেন। ইসলামে এমন সময়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া এবং তাঁর ওপর ভরসা করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। বিপদ ও দুশ্চিন্তার সময়ে কোরআনের সবচেয়ে পরিচিত দোয়াগুলোর একটি হলো হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের দোয়া। আল্লাহ তাআলা সূরা আম্বিয়ার ৮৭ নম্বর আয়াতে এই দোয়া উল্লেখ করেছেন।

 

দোয়াটি হলো, “লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ-জালিমিন।”অর্থাৎ, “আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি পবিত্র ও মহান। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।”হজরত ইউনুস আলাইহিস সালাম কঠিন বিপদের মধ্যে এই দোয়া করেছিলেন। এরপর আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করে তাঁকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন।

এই দোয়ায় রয়েছে আল্লাহর একত্বের স্বীকৃতি, তাঁর পবিত্রতার ঘোষণা এবং নিজের ভুলের স্বীকারোক্তি। তাই বিপদে পড়ে শুধু সমস্যার সমাধান চাওয়া নয়, নিজের ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার শিক্ষাও রয়েছে এই দোয়ায়।

এবার আসা যাক ঋণের বিষয়টিতে। ঋণমুক্তির জন্য নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া শিখিয়েছেন। এটি কোরআনের আয়াত নয়, বরং হাদিসে বর্ণিত দোয়া। দোয়াটির একটি অংশ হলো, “আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিক, ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।”অর্থাৎ, “হে আল্লাহ, আপনার হালাল দ্বারা আমাকে আপনার হারাম থেকে বাঁচিয়ে যথেষ্ট করে দিন এবং আপনার অনুগ্রহে আপনি ছাড়া অন্য সবার থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী করে দিন।”এই দোয়াটি শুধু ঋণমুক্তির আকাঙ্ক্ষা নয়, হালাল উপার্জন এবং আল্লাহর ওপর নির্ভরতার শিক্ষাও দেয়। ঋণ থেকে মুক্তির জন্য আরেকটি প্রসিদ্ধ দোয়া রয়েছে, যেখানে ঋণের চাপ ও মানুষের কাছে অপমানিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া হয়। অর্থাৎ ইসলামে ঋণমুক্তির বিষয়টি শুধু অর্থের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। একজন মানুষ যেন ঋণের চাপে মানসিকভাবে ভেঙে না পড়েন এবং হারাম উপায়ে অর্থ সংগ্রহের দিকে না যান, সেই শিক্ষাও রয়েছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার শুধু দোয়া পড়লেই ঋণ অবশ্যই পরিশোধ হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া ঠিক নয়। দোয়ার পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের বাস্তব চেষ্টা করতে হবে, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতে হবে, হালাল উপার্জনের চেষ্টা করতে হবে এবং কারও অধিকার নষ্ট করা যাবে না।

বিপদের সময় তাই একজন মুসলমানের পথ হতে পারে—আল্লাহর কাছে দোয়া, নিজের ভুলের জন্য তওবা এবং বাস্তব জীবনে সঠিক পদক্ষেপ। হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের দোয়া আমাদের শেখায়, মানুষ যত কঠিন অবস্থাতেই থাকুক, আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার দরজা বন্ধ হয় না। আর ঋণের ক্ষেত্রে নবীজির শেখানো দোয়া মনে করিয়ে দেয়, সমাধান শুধু সম্পদে নয়, বরং হালাল রিজিক ও আল্লাহর ওপর নির্ভরতাতেও। তাই বিপদে পড়লে হতাশ না হয়ে আল্লাহকে ডাকুন, আর ঋণের বোঝা থাকলে দোয়ার পাশাপাশি দায়িত্বশীলভাবে তা পরিশোধের চেষ্টা করুন। কারণ মুমিনের জন্য দোয়া হলো আশ্রয়, আর চেষ্টা হলো সেই আশ্রয়ের সঙ্গে এগিয়ে চলার পথ।

বিপদে পড়লে পড়ুন এই কোরআনিক দোয়া

বিপদ ও দুশ্চিন্তার সময়ে কোরআনে বর্ণিত একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া হলো হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের দোয়া—“লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ-জালিমিন।” অর্থাৎ, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আপনি পবিত্র, নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। এই দোয়ায় আল্লাহর একত্বের স্বীকৃতি, তাঁর প্রশংসা এবং নিজের ভুল স্বীকার করা হয়েছে। বিপদের সময়ে আন্তরিকভাবে এই দোয়া করা যেতে পারে।

ঋণমুক্তির জন্য যে দোয়া পড়বেন

ঋণমুক্তির জন্য নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া শিখিয়েছেন। দোয়াটি হলো, “আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিক, ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।” অর্থাৎ, হে আল্লাহ, আপনার হালাল দ্বারা আমাকে হারাম থেকে বাঁচিয়ে যথেষ্ট করে দিন এবং আপনার অনুগ্রহে আপনি ছাড়া অন্য সবার থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী করে দিন। তবে শুধু দোয়া নয়, ঋণ পরিশোধের বাস্তব চেষ্টা ও হালাল উপার্জনও জরুরি।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি