জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম অংশীদার জাপান। মেট্রোরেল থেকে মাতারবাড়ী বন্দরসহ দেশের বড় প্রকল্পগুলোতে রয়েছে দেশটির অর্থায়ন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে ঋণের শর্ত। ইআরডি বলছে ২০১৫ সালে যে ঋণে সুদের হার ছিল মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ, ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে। “১০ বছরে জাপানের ঋণের সুদহার বেড়েছে ৩৫০ গুণ”।
১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ও জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অনুদান, কারিগরি সহযোগিতা ও সহজ শর্তের ঋণ দিয়ে আসছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা—জাইকা। তবে গত এক দশকে জাপানের উন্নয়ন ঋণের সুদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ছয়টি প্রকল্পে এক হাজার ৩৩২ কোটি ৬৫ লাখ ইয়েনের ঋণচুক্তি হয়। এসব ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ছিল ৪০ বছর এবং গ্রেস পিরিয়ড ১০ বছর। তবে বাংলাদেশ নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পর ঋণের শর্ত কঠোর হতে শুরু করে।
বর্তমানে সাধারণ শর্তে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ৩০ বছর, যার মধ্যে ১০ বছর গ্রেস পিরিয়ড।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পর সহজ শর্তের ঋণ পাওয়ার সুযোগ কমেছে। এ পরিস্থিতিতে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে দর-কষাকষি, বিকল্প অর্থায়ন এবং ঋণের উৎস বৈচিত্র্যময় করা জরুরি।
বর্তমানে জাপানের সরকারি উন্নয়ন সহায়তায় ৭৩টি প্রকল্প চলমান। এর মধ্যে ২৪টি ঋণ সহায়তাপুষ্ট। উল্লেখযোগ্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বন্দর, ঢাকার মেট্রোরেল, যমুনা রেল সেতু এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋণের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর দর-কষাকষি ও বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ অনুসন্ধান জরুরি।
জাপানের ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থায়নে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বড় প্রকল্পের জন্য বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা থাকায় বাড়তি সুদের প্রভাব পড়তে পারে দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় ও ঋণ পরিশোধের ওপর। এই চাপ সামলাতে প্রয়োজন উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে কার্যকর দর-কষাকষি, বিকল্প অর্থায়নের উৎস অনুসন্ধান এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় কৌশলগত পরিকল্পনা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
এখন দেখার বিষয়, ঋণের বাড়তি ব্যয় সামলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা কতটা ধরে রাখতে পারে বাংলাদেশ। —জা. অর্থনীতি/এলএটি