Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 03:41 am

ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নির্দেশ স্থগিত

image

জাতীয় অর্থনীতি আন্তর্জাতিক: বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ স্থগিত করেছেন আদালত। ফলে আপাতত ভারত ছাড়ার ব্যাপারে জারিকৃত নোটিশের ব্যাপারে স্বস্তি পেলেন তিনি। পরবর্তী শুনানির তারিখ ২ নভেম্বর পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন আদালত।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইমরান খান একজন মার্কিন নাগরিক এবং তিনি ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডের অধিকারী। আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে তাকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে ‘ফরেনার্স আঞ্চলিক রেজিস্ট্রেশন অফিস’ (এফআরআরও) যে নোটিশ জারি করেছিল, সেটি চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন অভিনেতা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর দিল্লিতে হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আয়েজিত বিক্ষোভের সমর্থনে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের এক তরফা কার্যপদ্ধতি ও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পর্যবেক্ষণের (এসআইআর) প্রক্রিয়ার অনিয়মের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন ইমরান খান। এ কারণেই তার বিরুদ্ধে এই নোটিশ জারি করা হয়েছিল।

বিজেপি নেতা কিরীট সোমাইয়া পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে জানান, মার্কিন নাগরিক হওয়ার পরও এ অভিনেতা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন, যা নিয়ম লঙ্ঘন করে। অভিযোগটি পরবর্তীতে এফআরআরও’র কাছে পাঠানো হয় এবং তারা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট ২০২৫-এর অধীনে একটি দেশত্যাগ নোটিশ জারি করে। এ আইনের ৭ ধারা ভারত সরকারকে দেশে বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ, প্রস্থান, উপস্থিতি বা চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ, সীমাবদ্ধ বা নিষিদ্ধ করার জন্য আদেশ, নির্দেশ বা নির্দেশনা জারির ক্ষমতা প্রদান করে।

গত ১৭ অক্টোবর অভিনেতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এবং দাবি করেন―কোনো জনসমাবেশে অংশ নেননি তিনি এবং বিক্ষোভ আয়োজকদের কারও সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই তার। এ কারণে নোটিশটিকে ‘বেআইনি, স্বেচ্ছাচারী, বিকৃত ও চরম পদক্ষেপ’ বলে যুক্তি দেন তিনি।

এ তারকা আদালতে যাওয়ার পর এফআরআরও থেকে আরেকটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। সেখানে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়- কেন তার ওসিআই মর্যাদা বাতিল করা হবে না।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আদালতে শুনানির সময় ইমরান খানের আইনজীবী ভেঙ্কটেশ ২৮ অক্টোবরের সময়সীমার বিষয়টি উত্থাপন করেন। এরপর অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অনিল সিং আশ্বাস দেন, কোনো জোরজবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়া হবে না। পরে প্রধান বিচারপতি মহেশ চন্দ্র ত্রিপাঠি এবং বিচারপতি অদ্বৈত শেঠনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ জানায়, তারা আগামী ২ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি করবেন।

অভিযোগ রয়েছে―ইমরান খান, তার সঙ্গী লেখা ওয়াশিংটন এবং তার বোন জেন মারি খান মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। পুলিশ তাদের সাময়িক সময়ের জন্য আটকও করেছিল। পরে অভিনেতা একটি প্রিজন ভ্যানের ভেতর থেকে তাদের একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লিখেছিলেন, দেখা যাচ্ছে, আমি ড্রাইভে যাচ্ছি।

এছাড়া বিক্ষোভস্থলে বলিউড তারকা বলেছিলেন, আমার কোনো দাবি নেই। একজন নাগরিক হিসেবে, এই শহরে বসবাস করা একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমি এখানে এসেছি। চলাফেরার স্বাধীনতা কেন খর্ব করা হচ্ছে, তা দেখার জন্যই এসেছি। মানুষের কণ্ঠস্বর কেন চেপে ধরা হচ্ছে, ঠিক এ কারণেই এখানে এসেছি আমি।

—জা.অর্থনীতি/জেআরটি