জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: রাতের গভীরে যখন সবাই ঘুমিয়ে, তখন কয়েক মিনিটের জন্য আল্লাহর সামনে দাঁড়ালে কী হতে পারে? তাহাজ্জুদ এমন একটি নফল নামাজ, যা রাতের নীরবতায় বান্দাকে আল্লাহর আরও কাছে যাওয়ার সুযোগ দেয়। কিন্তু অনেকেই জানেন না, তাহাজ্জুদের সঠিক সময় কখন, কত রাকাত পড়তে হয় এবং কীভাবে আদায় করতে হয়। আবার কেউ মনে করেন, তাহাজ্জুদ পড়তে হলে অবশ্যই অনেক রাকাত পড়তে হবে। তাহলে কোরআন ও হাদিসের আলোকে তাহাজ্জুদের সঠিক নিয়ম ও ফজিলত কী?
তাহাজ্জুদ হলো রাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ নফল নামাজ। ফরজ নামাজের মতো এটি বাধ্যতামূলক নয়, তবে কোরআন ও হাদিসে রাতের ইবাদতের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। তাহাজ্জুদের সময় শুরু হয় এশার নামাজের পর থেকে ফজরের সময় শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত। তবে ঘুম থেকে উঠে রাতের শেষভাগে নামাজ পড়াকে তাহাজ্জুদের জন্য বিশেষভাবে উত্তম মনে করা হয়। অর্থাৎ এশার পর ঘুমিয়ে, রাতের কোনো একসময় উঠে তাহাজ্জুদ আদায় করা যায়।
তাহাজ্জুদের সবচেয়ে উত্তম সময় হিসেবে রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশ বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। সহিহ হাদিসে এসেছে, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ তার বান্দাদের দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনার প্রতি বিশেষ আহ্বান করেন।
তাহাজ্জুদ পড়ার নিয়মও খুব সহজ। প্রথমে এশার নামাজ আদায় করতে হবে। এরপর ঘুমিয়ে রাতে উঠে ওজু করে কিবলামুখী হয়ে দুই রাকাত দিয়ে নামাজ শুরু করা যায়। হাদিসে এসেছে, রাতের নামাজ দুই রাকাত দুই রাকাত করে আদায় করতে হয়। তাই দুই রাকাত করে যতটুকু সম্ভব পড়া যায়। তাহাজ্জুদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সূরা পড়তেই হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। কোরআন থেকে যে সূরা বা আয়াত সহজ মনে হয়, তা দিয়ে নামাজ পড়া যায়।
তাহাজ্জুদের রাকাত সংখ্যার ক্ষেত্রেও একটি বিষয় পরিষ্কার থাকা দরকার। এর জন্য নির্দিষ্ট একটি সর্বোচ্চ সংখ্যা বেঁধে দেওয়া হয়নি। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রাতের নামাজ সম্পর্কে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদিসে সাধারণত এগারো রাকাত উল্লেখ পাওয়া যায়, যার মধ্যে বিতরও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাই কেউ কম রাকাত পড়লে তাহাজ্জুদ হবে না—এমন ধারণা ঠিক নয়। দুই রাকাত দিয়েও শুরু করা যায়। তাহাজ্জুদের পর নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী আল্লাহর কাছে দোয়া করা যায়। নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া, পরিবার, রিজিক, সুস্থতা, হেদায়েত এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য দোয়া করা যেতে পারে। কোরআনের সূরা বনি ইসরাইলের ৭৯ নম্বর আয়াতে রাতের অতিরিক্ত নামাজের কথা উল্লেখ করে এর মাধ্যমে বিশেষ মর্যাদা লাভের আশা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে তাহাজ্জুদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা শুধু কোনো পার্থিব চাওয়া পূরণ করা নয়। বরং যখন পুরো পৃথিবী ঘুমিয়ে থাকে, তখন একজন বান্দা নিজের রবের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর কাছে ফিরে আসে।
আর যদি কেউ মনে করেন, রাতের শেষভাগে ঘুম থেকে উঠতে পারবেন না, তাহলে এশার পর বিতর আদায় করে ঘুমাতে পারেন। পরে ঘুম থেকে উঠতে পারলে নফল রাতের নামাজ পড়া যাবে, তবে একই রাতে আবার বিতর পড়তে হবে না।
তাহাজ্জুদ তাই কঠিন কোনো ইবাদত নয়। প্রতিদিন অনেক রাকাত দিয়ে শুরু করার প্রয়োজন নেই। মাত্র দুই রাকাত দিয়ে শুরু করুন। কয়েক মিনিটের সেই নীরব সময়টুকু আল্লাহর জন্য রাখুন। কারণ তাহাজ্জুদের সৌন্দর্য রাকাতের সংখ্যায় নয়, বরং সেই সময়ে, যখন আপনি নিজের সব ব্যস্ততা থেকে দূরে গিয়ে একান্তে আল্লাহর সামনে দাঁড়াচ্ছেন।
তাহাজ্জুদ পড়বেন যেভাবে
তাহাজ্জুদ হলো রাতের গুরুত্বপূর্ণ নফল নামাজ। এশার পর থেকে ফজরের আগে পর্যন্ত এটি আদায় করা যায়। তবে ঘুম থেকে উঠে রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশে পড়া বিশেষভাবে উত্তম। দুই রাকাত করে তাহাজ্জুদ পড়া যায় এবং এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সূরা বাধ্যতামূলক নয়। রাকাতের নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সংখ্যাও নেই। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রাতের নামাজ সম্পর্কে এগারো রাকাতের বর্ণনা পাওয়া যায়, যার মধ্যে বিতরও ছিল। শেষে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী দোয়া করা যায়।
তাহাজ্জুদের সবচেয়ে উত্তম সময় কখন?
তাহাজ্জুদ পড়তে হলে অনেক রাকাত পড়তেই হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। মাত্র দুই রাকাত দিয়েও শুরু করা যায়। এশার পর ঘুমিয়ে রাতে উঠে ওজু করে দুই রাকাত করে নামাজ পড়তে পারেন। রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশ তাহাজ্জুদের বিশেষ সময়। এই সময়ে নামাজের পাশাপাশি ক্ষমা, হেদায়েত, রিজিক, পরিবার এবং দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা যায়। তাহাজ্জুদের আসল সৌন্দর্য হলো, নীরব রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে, তখন আপনি একান্তে আপনার রবের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি