আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে গাজায় অসংখ্য পরিবার ভেঙে পড়েছে। মা-বাবাকে হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে হাজারো শিশুর। স্বজনদের আশ্রয়ে কোনোমতে বেঁচে থাকা এসব শিশুর জন্য খাবার, পোশাক ও নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এমনই দুর্দশায় রয়েছে গাজার তিন ভাইবোন মারিয়াম, আয়া ও জিবরিল। তাদের বয়স যথাক্রমে ১৬, ১৪ ও ১২ বছর। ২০১৪ সালে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে বাবাকে হারানোর পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে মাও নিহত হন ইসরায়েলি হামলায়। মায়ের মৃত্যুর সময় ১২ বছর বয়সী জিবরিল তার কোলেই ছিল। ওই হামলায় আহতও হয় সে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া যুদ্ধে গাজা সিটিতে তাদের বাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর দেইর আল-বালাহ এলাকায় তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছিল পরিবারটি। মায়ের মৃত্যুর পর থেকে তিন ভাইবোনকে কখনো দাদি, কখনো খালাদের তাঁবুতে থাকতে হচ্ছে। দুই রাত পরপর আশ্রয় বদলাতে হয় তাদের।
তাদের খালা ওয়ারদা আল-মুজেইনি নিজেও স্বামীহারা। চার সন্তানকে নিয়ে আর্থিক সংকটে থাকা সত্ত্বেও বোনের তিন সন্তানকে দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করছেন তিনি ও তার বোনেরা।
গাজার সামাজিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে অন্তত ৭১ হাজার শিশু এতিম হয়েছে। এর মধ্যে ৫৪ হাজার ৪৬৮ শিশু ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর মা-বাবার একজন বা দুজনকেই হারিয়েছে। এ ছাড়া অন্তত ৬৪ হাজার নারী স্বামীহারা হয়েছেন। প্রায় তিন হাজার শিশুর কোনো নিবন্ধিত অভিভাবক বা পরিচর্যাকারী নেই।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আজিজা আল-খালুতের ভাষ্য, দারিদ্র্য, বাস্তুচ্যুতি ও পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারানোর কারণে শিশুদের শ্রমে যুক্ত হওয়া, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া এবং অল্প বয়সে বিয়ের ঝুঁকি বাড়ছে।
জা.অর্থনীতি/এসআই