Print Date & Time : 20 October 2026 Tuesday 08:25 am

পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে কেনা হচ্ছে ৫,৮৩০ গাড়ি

image

মোফাজ্জল বিদ্যুৎ, ঢাকা: অপরাধ দমন ও নিরাপত্তা টহল জোরদারে বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে পুলিশের জন্য ৫ হাজার ৮৩০টি গাড়ি কেনা হচ্ছে। এতে ব্যয় হবে ৬ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা। 

দুটি ক্রয় প্রকল্পের মাধ্যমে এসব গাড়ি কেনা হবে। আগামী রোববার (২৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষায়িত (স্পেশালাইজড) এবং অপারেশনাল যানবাহন ক্রয় প্রকল্প দুটি অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। 


বর্তমানে দেশের ৬৩৯টি প্রশাসনিক থানায় যানবাহন আছে ১ হাজার ২৩৭টি। সেই হিসেবে একটি থানায় গড়ে দুটি করেও গাড়ি নেই। তার ওপর বিদ্যমান যানবাহনের ৬৪ শতাংশই ১০ বছর আগে কেনা। পুরোনো এসব গাড়ি দিয়ে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় টহলসহ অন্য কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ পুলিশ। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নতুন গাড়ি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

একনেক উইং বলছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতায় পুলিশের জন্য ৪ হাজার ৮২৯টি অপারেশনাল গাড়ি কেনায় ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩২৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা। বিশেষায়িত ১ হাজার একটি বিশেষায়িত গাড়ি কেনায় ব্যয় হবে ২ হাজার ২৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এসব প্রকল্পের পুরো অর্থ জোগান দেবে সরকার (জিওবি)। প্রকল্প দুটি চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত সারা দেশে বাস্তবায়ন করবে পুলিশের জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষা সেক্টর। পুলিশের যানবাহনের টেবিল অব অর্গানাইজেশন অ্যান্ড ইক্যুইপমেন্ট (টিওঅ্যান্ডই) অনুযায়ী তীব্র ঘাটতি পূরণের মাধ্যমে জনসেবায় দ্রুত সাড়াদানে নিশ্চিত করারে উদ্দেশে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

অপারেশনাল গাড়ি কেনা বাদেও প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমে উল্লেখ করা হয়েছে, ৪ হাজার ৮২৯টি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বাবদ ব্যয় হবে ৪৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ড্রাইভিং অ্যান্ড মেকানিকসে হালকা ও ভারী প্রশিক্ষণে যথাক্রমে ৭০ ও ৪৪ লাখ টাকা, ভেহিক্যাল মেকানিক প্রশিক্ষণে ৩৯ কোটি এবং গাড়ি মেরামতের যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি কেনায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে। 

অন্যদিকে বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পের অধীনে ৯১০ কর্মীকে ড্রাইভিং ও মেকানিক্যাল প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একইসঙ্গে আরও ৫০ জন মেকানিক প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। 

পুলিশের সদর দপ্তরের ভাষ্য, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের ১ হাজার ৭৪টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর গাড়ির সংকট আরও তীব্র হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব গাড়ির মধ্যে ৪৫৫টি পুরোপুরি পুড়িয়ে ফেলা হয়। গণঅভ্যুত্থানের সময় অনেক গাড়ি পুড়ে যাওয়া বা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় পুলিশের টহল ও আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

 গত ৩০ মার্চ জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, পুলিশের সক্ষমতা ফেরাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি পরিবর্তে নতুন গাড়ি সরবরাহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে এই প্রস্তাবিত কেনাকাটার লক্ষ্য কেবল ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি প্রতিস্থাপন নয়; বরং পুলিশের সামগ্রিক পরিবহন সংকট দূর এবং তাদের বিশেষায়িত সক্ষমতা আরও জোরদার করা।

অপারেশনাল প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি থানার অধীনে সাধারণত বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড থাকে। বিভিন্ন এলাকায় একই সঙ্গে টহল বা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিটি থানায় অন্তত চারটি থেকে পাঁচটি পিকআপ বা টহল গাড়ির প্রয়োজন হয়। তবে জনবহুল ও অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোর ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি গাড়ির প্রয়োজন হতে পারে। অনেক থানায় মাত্র একটি বা দুটি গাড়ি থাকায় কোনো অভিযানে একটি দল পাঠালে অন্য এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত টহল বা তাৎক্ষণিক পুলিশি সহায়তা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

সাধারণ যানবাহন প্রকল্পের লক্ষ্য হলো নিয়মিত টহল, অপরাধ ও মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার এবং জরুরি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো। এছাড়া জাতীয় নির্বাচন ও বড় ধরনের অনুষ্ঠানের সময়, যখন সারা দেশে পুলিশকে একযোগে কাজ করতে হয়, তখন অতিরিক্ত গাড়ির প্রয়োজনীয়তার কথা প্রস্তাবনায় তুলে ধরা হয়েছে।


পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিয়মিত টহল, অপরাধ ও মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার এবং জরুরি সেবা প্রদানে পুলিশের গতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়।

অন্যদিকে বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পের লক্ষ্য হলো সংঘাত নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ তদন্ত এবং দুর্গম এলাকায় অভিযান পরিচালনায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর ১৫ অক্টোবর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি প্রস্তাব দুটি পর্যালোচনা করে। কমিটি শর্তসাপেক্ষে একনেকের জন্য সুপারিশ করেছে, প্রকল্পগুলোতে যেন সঠিক ব্যয় প্রাক্কলন নিশ্চিত করা হয়, সরকারি ক্রয় বিধিমালা মেনে চলা হয় এবং গাড়িগুলোর পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা রাখা হয়।