Print Date & Time : 21 October 2026 Wednesday 04:15 pm

ফ্রান্সে বিক্ষোভের রেশ ইতালিতে, গ্রেপ্তার প্রায় দুই শতাধিক

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রতিবেশী ফ্রান্সে চলমান অস্থিরতার রেশ ধরে এবার তীব্র গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ইতালিতেও। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, অতিরিক্ত করের চাপ এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ‘ইতালিয়া ইন পিয়াজ্জা’ ব্যানারে দেশটির বিভিন্ন শহরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যাতে অন্তত ১৪১ জন পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগে নিরাপত্তা বাহিনী দুই শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে।

ইতালীয় সংবাদমাধ্যম স্কাই টিজি২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ শুরুর দিন শনিবার পুলিশ ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করে, যাদের মধ্যে ১২ জনই ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক। তবে রবিবার এই আন্দোলন আরও বিস্তৃত হলে নিরাপত্তা বাহিনী ১৯৭ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং তাদের মধ্যে ৪৩ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পুলিশের পরিসংখ্যান অনুসারে, শনি ও রবিবারের এই কর্মসূচিতে দেশের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র মিলানে প্রায় ৫ হাজার, তুরিনে ৩ হাজার, বোলোনিয়ায় ২ হাজার, বেরগামোতে ৮০০ এবং ব্রেসিয়ায় প্রায় ৬০০ মানুষ রাজপথে অংশ নেন।

বিক্ষোভ চলাকালে সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে মিলান শহরে। সেখানে বিক্ষোভকারীদের কয়েকটি দল পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, কাচের বোতল, আতশবাজি ও ব্যারিকেড ছুড়ে মারলে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এ সময় শহরের কেন্দ্রস্থলে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে এবং দেশটির সামরিক পুলিশ ‘কারাবিনিয়েরি’র একটি গাড়ি ধ্বংস করা হয়। ইতালির খুচরা বিক্রেতাদের সংগঠন কনফেকমেরচিও জানিয়েছে, গত দুই দিনের এই তাণ্ডবে মিলানের দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পাঁচ লাখ ইউরোরও বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া তুরিনে পেট্রোলবোমা বহনের অভিযোগে তিন কিশোরসহ চারজনকে এবং বোলোনিয়ার রেলওয়ে স্টেশনের কাছে রেললাইনে ব্যারিকেড দেওয়া ও পুলিশের ওপর হামলার দায়ে আরও পাঁচ অপ্রাপ্তবয়স্ককে আটক করা হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি বলেন, হাজার হাজার সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে তাঁদের দাবি জানালেও বিক্ষোভের নামে একটি অংশের সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়; এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানাতে তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও আহ্বান জানান। এদিকে উপ-প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ যেকোনো বিক্ষোভের আয়োজকদের কাছ থেকে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির জন্য আর্থিক নিশ্চয়তা বাধ্যতামূলক করার একটি আইনি প্রস্তাব তাঁর দল দ্রুত পার্লামেন্টে তুলতে যাচ্ছে।

সহিংসতার ঘটনায় মিলানের মেয়র জিউসেপ্পে সালা মন্তব্য করেন, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের ক্ষোভের বিষয়টি বোধগম্য হলেও কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর শারীরিক আক্রমণ এবং শহরের সার্বিক ক্ষতি কোনো সমাধান হতে পারে না। একইভাবে বোলোনিয়ার মেয়র মাত্তেও লেপোরেও সামাজিক অস্থিরতার কড়া সমালোচনা করেছেন এবং যারা সাধারণ মানুষের ন্যায্য ক্ষোভকে ঢাল বানিয়ে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের ফাঁদে পা না দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
জেএ/অভি