Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 03:20 am

সরকারের ঘাড়ে ২৩ লাখ কোটি টাকার ঋণ! (ভিডিও)

image

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: সরকারের ঋণ কি থামছেই না? প্রথমবারের মতো সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ ছাড়িয়েছে সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকা।

২০২৫–২৬ অর্থবছর শেষে এই ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৬শ ৩৫ কোটি টাকা। আর এক বছরে বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, গত অর্থবছরে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার নতুন করে ঋণ নিয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৯শ ৪ কোটি টাকা। অথচ, লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি। অর্থাৎ, লক্ষ্যের চেয়েও প্রায় ৬ হাজার ৯শ কোটি টাকা বেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে।

এই বিপুল ঋণের সবচেয়ে বড় উৎস এখন ব্যাংক খাত। গত অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ বেড়েছে ৫৪ হাজার ৬শ ৫ কোটি টাকা। এতে, সরকারের পুঞ্জীভূত ব্যাংকঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন ঋণ এসেছে মাত্র ১শ ৯২ কোটি টাকা।

তবে, সরকারের ঋণের হিসাব শুধু দেশেই সীমাবদ্ধ নয়। সর্বশেষ মার্চের হিসাবে বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল প্রায় ৯১ বিলিয়ন ডলার। ১২৫ টাকা দরে হিসাব করলে, যা ১১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। তবে, জুনের হিসাব এখনো প্রকাশিত হয়নি। আর মার্চের তথ্য ধরলে, দেশি-বিদেশি ঋণ মিলিয়ে সরকারের মোট ঋণের বোঝা প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকা।

ঋণ বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে সুদের চাপও। চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫শ কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়তে বাড়তে নতুন ঋণ নিয়ে পুরোনো ঋণ শোধের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

তাই এখন বড় প্রশ্ন, ঋণের পরিমাণ কত, শুধু সেটিই নয়। এই ঋণ দিয়ে কতটা আয় ও উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে, আর ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধ হবে কীভাবে, সেটিই অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি