Print Date & Time : 22 October 2026 Thursday 03:48 am

কেন পারছে না বাংলাদেশ?

image

ক্রীড়া প্রতিবেদক: শুরুতে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করা, বল হাতে দাপট দেখানো, তিন উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখানো-সবই ছিল বাংলাদেশের। ছিল না শুধু ম্যাচ শেষ করার সামর্থ্য। ২৪ রানে জিম্বাবুয়ের তিন উইকেট তুলে নেওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত ৯৯ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে টাইগারদের। ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অলআউট হয়েছে ১৭২ রানে। ব্যাটিংয়ের সেই পুরোনো রোগ আবারও সামনে এসেছে। আর এই ব্যর্থতার ব্যবচ্ছেদ করতে গিয়ে তাসকিন আহমেদ দেখালেন সমস্যার গভীরতাও। তার চোখে, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের স্কিলের অভাব নেই, অভাব ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে খেলার।

আবুধাবিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বোলিং শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক। তাসকিনের নেতৃত্বে জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডারকে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের চতুর্থ উইকেট জুটি পাল্টে দেয় ম্যাচের চিত্র। দুজন মিলে যোগ করেন ১৫০ রান। টেলরের ৮১ ও আরভিনের ৯৩ রানের ইনিংসে ২৭১ রানের পুঁজি পায় জিম্বাবুয়ে।

তাসকিনের মতে, ওই জুটিই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘ম্যাচ হারলে একজন খেলোয়াড় দলের জন্য সেটাই সবচেয়ে বড় হতাশার। যতই ৩ উইকেট বা ৫ উইকেট পাই, ম্যাচ না জিতলে কখনই সেটা লাভ হয় না। শুরুটা খুব দারুণ হয়েছিল। এটাও ঠিক যে, উইকেটটা বেশ ভালো ছিল ব্যাটিংয়ের জন্য। কিন্তু ওদের মাঝখানে যে বড় একটা জুটি হলো। তো আসলে ওই শুরুর সাফল্যের পরে মাঝখানে আসলে একটু লম্বা জুটি হয়ে যাওয়ায় ওরা অনেকটা এগিয়ে যায়। সেই জুটি ভাঙার পরও আমার মনে হয় একটা মোটামুটি রানে আটকানো সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত পরে আর জেতা হলো না।’

তবে বোলারদের সেই প্রচেষ্টার যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারেনি ব্যাটিং ইউনিট। সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসানের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৪৭ রান। তানজিদ করেন ৩৮ বলে ৪৬। এর পর সাইফ হাসানের ২৬ রান ছাড়া বলার মতো কিছু ছিল না। নবম উইকেটে তাসকিন ও রিশাদ হোসেনের ৩২ রানের জুটি কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও ততক্ষণে ম্যাচ বাংলাদেশের নাগালের বাইরে।

তাসকিনের আক্ষেপ, অন্তত একটি কার্যকর জুটি হলে ম্যাচের ফল অন্য রকম হতে পারত, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমরা একটাও জুটি গড়তে পারিনি। একটা জুটি হলেই খেলাটা বের হয়ে যেত। আমাদের ব্যাটিংয়ে প্রায়ই ভুল করা হয়। বোলিংয়ে তাও তো একটা ধারাবাহিকতা আছে। আসলে ব্যাটসম্যানদের জেতানো উচিত ছিল, কিন্তু পারে নাই।’

কেন বারবার একই জায়গায় আটকে যাচ্ছে বাংলাদেশের ব্যাটিং? তাসকিনের ব্যাখ্যায় উঠে এসেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, ‘ম্যাচ পরিস্থিতি বুঝতে পারার ঘাটতিটা একটু বেশি। কারণ স্কিল কিন্তু সবার আছে। আপনারা যারা ক্রিকেট খেলা দেখেন, প্রতিটি ব্যাটসম্যানই কিন্তু প্রমাণ করেছে, তারা ভালো ব্যাট করতে পারে। মাঝে মাঝে দল হিসেবে, চাপে পড়লে খুব দ্রুত ভেঙে পড়ি। এই জিনিসটাই বের হয়ে আসতে হবে। বড় দল হতে চাইলে যেকোনোভাবে বের হয়ে আসতে হবে। এটা নিয়ে আমরা সবাই মিলে কাজ করছি, কীভাবে দ্রুত ঠিক করা যায়।’

একই ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছেন অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ও, ‘মিরাজের জ্বর ছিল। ও খেলেনি। ও আমাদের ওয়ানডে দলের অন্যতম প্রধান একজন খেলোয়াড়। কিন্তু বাকিরাও যারা খেলেছেন, তারাও কিন্তু যথেষ্ট সক্ষম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত হয়নি।’

সমস্যা শুধু উইকেট কিংবা প্রতিপক্ষের বোলিং নয়। ২৭২ রান তাড়া করার মতো পরিস্থিতি ছিল বলেই মনে করছেন তাসকিন। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। সামনে ২১ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ। ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে সেই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই। তাসকিনের কথায়, ‘এখনও একটা ম্যাচ বাকি আছে। আমরা চাইব যে, ভালোভাবে লড়াই করে ফিরে এসে যেন ফাইনাল খেলতে পারি।’

তবে ফাইনালে ওঠার স্বপ্নের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ব্যাটিং সমস্যার সমাধান। কারণ প্রতিবার বোলাররা ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি করবেন, আর ব্যাটাররা জুটি গড়তে ব্যর্থ হবেন-এভাবে বড় দল হয়ে ওঠা কঠিন।