জাতীয় অর্থনীতি অনলাইন: এক বছরের মধ্যে নিজস্ব ‘সার্বভৌম এআই’ ডেটা সেন্টার চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এতে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ। তবে অবকাঠামো তৈরির স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ।
সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এআই অ্যান্ড ইনোভেশন ডায়ালগে তিনি এ কথা জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নমেন্ট ইনোভেশন ইউনিট যৌথভাবে এই আলোচনার আয়োজন করে।
সার্বভৌম এআই ব্যবস্থা হলো কোনো দেশের নিজস্ব অবকাঠামো, তথ্য, জনবল এবং কম্পিউটিং শক্তি ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি ও পরিচালনার সক্ষমতা, যেখানে বিদেশি প্রযুক্তি বা মডেলের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন পড়ে না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেহান আসিফ আসাদ বলেন, আগামী ১২ মাসের মধ্যে বাংলাদেশের নিজস্ব সার্বভৌম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা থাকবে; এ জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং চিপ ও মেমোরি ব্লক ইতোমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে করব। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন কোম্পানির সাথে আমাদের পার্টনারশিপ করতে হবে, শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়।’
তিনি জানান, শিগগিরই এটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে, যেন তারা বাংলায় ভবিষ্যতের এআই মডেল বা এলএলএম তৈরি এবং উদ্ভাবনী সেবা নিয়ে কাজ করতে পারে।
তিনি জানান, ডেটা সেন্টারের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর বিষয়টি চ্যালেঞ্জিং হলেও তা নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় সরকার। এ ধরনের অবকাঠামোর জন্য যে পরিমান পানি প্রয়োজন তা পূরনে সক্ষম বাংলাদেশ।
রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ‘আমরা বলছি না যে, লালমনিরহাট উপযুক্ত জায়গা নয়। তবে কোনো একটা প্রজেক্ট করতে হলে কয়েকটা বিষয় দেখতে হয়। ডেটা সেন্টারের নিরাপত্তার জন্য এটি ভূমিকম্প প্রবণ এলাকার কোন প্লেটের ওপর আছে এটা গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ ও পানি গুরুত্বপূর্ণ। অনেকগুলো ফ্যাক্টর চিন্তা করে আমরা স্থান ঠিক করব।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তির কেন্দ্রীয় উপাদান হয়ে উঠবে।
সংলাপে ২৫টি আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিদেশে বাংলাদেশের ৮৫টি কূটনৈতিক মিশন অনলাইনে যুক্ত হয়।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, উন্নয়ন সহযোগী এবং প্রযুক্তি শিল্প, স্টার্টআপ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী চেম্বার, শিক্ষাঙ্গন ও থিংক ট্যাংকের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
—জা. অর্থনীতি/এএইচএ