প্রযুক্তি ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কঠোর ডিজিটাল আইনের বিরুদ্ধে টিকটকের আপিল প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ার সুপারিশ করেছেন ইইউর আইনি উপদেষ্টা। ইউরোপে বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া প্রভাব কমানোর যে চেষ্টা চলছে, তাতে বিষয়টিকে টিকটকের জন্য একটি পিছিয়ে পড়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, ইইউ-এর 'ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট' আইনের আওতায় টিকটককে 'গেটকিপার' বা বাজার নিয়ন্ত্রক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ইইউ-এর এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে টিকটকের মালিক প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স। এর আগে ২০২৪ সালে একটি নিম্ন আদালত টিকটকের মামলাটি খারিজ করে দেয়। এবার উচ্চ আদালতেও ইইউ আদালতের আইনি উপদেষ্টা আন্দ্রেয়া বিয়নদি আগের সেই রায়ই বহাল রাখার কথা বলেছেন।
উপদেষ্টা জানান, ব্যবহারকারীরা টিকটকের পাশাপাশি অন্য সামাজিক মাধ্যমও ব্যবহার করেন—শুধু এই অজুহাতে টিকটককে কড়া নজরদারির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। সাধারণত ৮০ শতাংশ মামলাতেই বিচারকেরা আইনি উপদেষ্টাদের এসব পরামর্শ মেনে চলেন। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বিচারকেরা এ বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দেবেন।
ইইউ-এর আইন অনুযায়ী, 'গেটকিপার' বা বাজার নিয়ন্ত্রকের তালিকায় থাকা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশ কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়, যাতে ছোট ও নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোও বাজারে টিকে থাকার সমান সুযোগ পায়। এসব নিয়ম ভাঙলে কোনো প্রতিষ্ঠানের পুরো বছরের মোট আয়ের ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানার কড়া বিধান রাখা হয়েছে।
বর্তমানে ইউরোপের বাজারে গুগল, মেটা, অ্যাপল, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট ও বুকিং ডটকমের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই তালিকায় রাখা হয়েছে। টিকটকের পাশাপাশি মেটাও তাদের মেসেঞ্জার ও মার্কেটপ্লেসকে এই তালিকা থেকে বের করার জন্য আইনি লড়াই চালাচ্ছে। তবে আদালত উপদেষ্টার কথা মেনে নিলে টিকটককে ইইউ-এর কড়া নীতিমালার ভেতরে থেকেই ব্যবসা চালাতে হবে