Print Date & Time : 23 October 2026 Friday 08:00 am

লিটনের বিশ্ব রেকর্ড

image

ক্রীড়া প্রতিবেদক: জন্মদিনটা হয়ে গেল স্পেশাল। টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন বাংলাদেশ দলের অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস। আবুধাবিতে টেস্টে ব্যাটিং ও উইকেটকিপিং—উভয় বিভাগেই অবিশ্বাস্য নৈপুণ্য দেখিয়ে এক অনন্য বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন এ বার্থডে বয়। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো উইকেটকিপার একই ম্যাচে দুটি ফিফটি করার সঙ্গে ৯টি ডিসমিসাল করার অসাধারণ কীর্তি গড়লেন।

আবুধাবি টেস্টের পঞ্চম দিনে সকালের সেশনে ইবাদত হোসেনের করা একটি বাউন্সার ব্যাটার ইকরাম আলীখিলের গ্লাভস ছুঁয়ে যাওয়ার পর ডান দিকে শরীর ভাসিয়ে দুর্দান্ত এক ডাইভিং ক্যাচ নেন লিটন। আর এই ক্যাচটির মাধ্যমেই ম্যাচের নবম ডিসমিসাল পূর্ণ করে নতুন বিশ্ব রেকর্ডের পাতায় নিজের নাম লিখিয়ে নেন এই বাংলাদেশি তারকা।

ম্যাচজুড়ে লিটনের পারফরম্যান্স ছিল এক কথায় রূপকথার মতো। দলের বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে প্রথম ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ ৫৩ রানের ইনিংস খেলার পর, দ্বিতীয় ইনিংসে আরও দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে চমৎকার একটি সেঞ্চুরি (১০২ রান) তুলে নেন তিনি। পঞ্চম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে ৯ হাজার  আন্তর্জাতিক রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন। এর পর সেঞ্চুরির তালিকায় পেছনে ফেলেছেন কিংবদন্তি মোহাম্মদ আশরাফুলকেও। শেষদিনে এবার বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেলেছেন তিনি। একইসঙ্গে উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে ৮টি ক্যাচ এবং ১টি স্টাম্পিংসহ সব মিলিয়ে ৯টি ডিসমিসাল করে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন অতীতের অনেক কিংবদন্তিকে।

এর আগে টেস্ট ইতিহাসে এক ম্যাচে দুই ইনিংসে ফিফটির সঙ্গে সর্বাধিক ডিসমিসালের রেকর্ডটি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটকিপার ডেনিস লিন্ডসের দখলে। ১৯৬৬ সালে জোহানেসবার্গ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ইনিংসে ফিফটি করার সঙ্গে ৮টি ডিসমিসাল করেছিলেন লিন্ডসে। ষাট বছর পর সেই রেকর্ড ভেঙে নিজের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করলেন লিটন দাস।

এছাড়া বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে এক ম্যাচে এর আগে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ডটি ছিল সাবেক উইকেটকিপার-অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলটের। ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ৭টি ডিসমিসাল করেছিলেন তিনি। ২২ বছরের পুরোনো সেই রেকর্ড তো বটেই, আন্তর্জাতিক আঙিনার বহু রেকর্ডকে পেছনে ফেলে অনেক দূর এগিয়ে গেছেন লিটন।

টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ১১টি ডিসমিসালের বিশ্ব রেকর্ড যৌথভাবে ধরে রেখেছেন ইংল্যান্ডের জ্যাক রাসেল, দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স এবং ভারতের ঋষভ পন্ত। ১৯৯৫ সালে জোহানেসবার্গ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম এই ১১টি ডিসমিসালের রেকর্ড গড়েন ইংলিশ কিপার রাসেল। দীর্ঘ ১৮ বছর পর একই ভেন্যুতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে সেই রেকর্ডে ভাগ বসান প্রোটিয়া কিংবদন্তি ডি ভিলিয়ার্স। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালে অ্যাডিলেড টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১১টি ডিসমিসাল করে এই তালিকায় নাম লেখান ভারতের ঋষভ পন্ত।

আবুধাবি টেস্টে লিটন দাসের বর্তমান সংগ্রহ ৯টি ডিসমিসাল। ইতিহাসের পাতায় যৌথভাবে সেই সর্বোচ্চ ১১ ডিসমিসালের রেকর্ড স্পর্শ করতে লিটনের প্রয়োজন আর মাত্র ২টি ডিসমিসাল এবং রেকর্ডটি এককভাবে নিজের করে নিতে চাই ৩টি ডিসমিসাল। টেস্টের শেষ মুহূর্তে লিটনের সামনে এখন সেই রেকর্ড হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

ব্যাট হাতে দায়িত্বশীল সেঞ্চুরি ও ফিফটি এবং উইকেটের পেছনে ক্ষিপ্রগতির ক্যাচিং—সব মিলিয়ে আবুধাবি টেস্টের প্রতিটি দিন স্মরণীয় করে রাখবেন লিটন দাস। তার এই ঐতিহাসিক অর্জন কেবল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসেই নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়েও এক সোনালি সংযোজন হয়ে থাকবে। ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে লিটনের এই পারফরম্যান্স দীর্ঘদিন গাঁথা থাকবে পরম বিস্ময়ে ও শ্রদ্ধায়।