জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক:
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা চলছিল। এতদিন ধারণা করা হচ্ছিল, তাদের বেতন বাড়াতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা একটি প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। তবে এবার সেই বিষয়ে পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন তথ্য অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতন স্কেলের সুবিধা পেতে আর কোনো পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির প্রয়োজন হবে না।
শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে জানানো হয়, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সরকার যে নতুন বেতন স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করবে, সেটিই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সরাসরি কার্যকর হবে। অর্থাৎ, তাদের জন্য আলাদা কোনো গেজেট বা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে না।
অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠতে পারে-অতীতে তো এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সব সময়ই আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হতো। তা ছাড়া তারা তো সরকারি কর্মচারীদের মতো সব ভাতা পান না। সে ক্ষেত্রে এবার আলাদা প্রজ্ঞাপন ছাড়া কীভাবে বেতন বাড়বে? শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, প্রজ্ঞাপন আলাদা না হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আগের মতো বাড়িভাড়া বা অন্যান্য ভাতার যে নিয়ম ছিল, তা আগের মতোই থাকবে। তবে সরকারি নতুন স্কেল অনুযায়ী মূল বেতন বৃদ্ধি পাবে। আর এই পুরো বিষয়টি সমন্বয় ও বাস্তবায়নের কাজ পরিচালনা করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর বা মাউশি।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ঠিক কতটা বাড়বে এবং কীভাবে নিজের বেতন হিসেব করবেন, তা জানা অত্যন্ত জরুরি। সরকারি বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের মূল সময় হিসাব করা হয় ৩০ জুনের ওপর ভিত্তি করে। ৩০ জুনে আপনার মূল বেতন কত ছিল, আপনি কোন গ্রেডে আছেন এবং নতুন কাঠামোয় আপনার গ্রেডের স্কেল কত করা হয়েছে-এই তিনটি তথ্য জানা থাকলেই খুব সহজে নিজের নতুন বেতন বের করা সম্ভব।
বেতন হিসাব করার নিয়ম মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত। প্রথমটি হলো তাদের জন্য, যারা একদম নতুন বা স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপে বেতন পাচ্ছিলেন। যেমন, পুরোনো ১৬তম গ্রেডে ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে স্কেল শুরু হতো। ৩০ জুনে যদি কারও মূল বেতন ঠিক ৯ হাজার ৩০০ টাকাই হয়ে থাকে, তবে নতুন পে-স্কেলে ওই ১৬তম গ্রেডের শুরুর যে ধাপ ধরা হয়েছে-ধরা যাক ২১ হাজার ৯০০ টাক-তিনি সরাসরি সেই ২১ হাজার ৯০০ টাকাই নতুন মূল বেতন হিসেবে পাবেন। এখানে বাড়তি কোনো জটিল হিসাব নেই।
দ্বিতীয় নিয়মটি তাদের জন্য, যারা এতদিন ধরে চাকরি করছেন এবং ইনক্রিমেন্ট পেয়ে স্কেলের মাঝামাঝি বা উপরের ধাপে উঠেছেন। এদের ক্ষেত্রে হিসাবের নিয়মটি সহজ। প্রথমে দেখতে হবে ৩০ জুনে আপনার আসল মূল বেতন কত ছিল। সেই বেতন থেকে আপনার স্কেলের সবচেয়ে নিচের মূল বেতনটি বিয়োগ দিতে হবে। এতে বের হয়ে আসবে পুরোনো স্কেলের শুরু থেকে আপনি ঠিক কত টাকা বেশি পাচ্ছিলেন। এবার এই বাড়তি টাকাটি বসিয়ে দিতে হবে নতুন স্কেলের শুরুর টাকার সাথে। যোগ করার পর যে অঙ্ক আসবে, তা যদি নতুন স্কেলের কোনো নির্দিষ্ট ধাপের সাথে হুবহু মিলে যায়, তবে সেটাই হবে আপনার নতুন মূল বেতন। আর যদি যোগফলটি নির্দিষ্ট কোনো ধাপের সাথে না মিলে দুই ধাপের মাঝামাঝি থাকে, তবে নিয়ম অনুযায়ী তার ঠিক উপরের উচ্চতর ধাপটি আপনার নতুন মূল বেতন হিসেবে নির্ধারিত হবে।
সহজ একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝা যাক। ধরা যাক, ৩০ জুনে ইনক্রিমেন্টসহ একজন কর্মচারীর মূল বেতন ছিল ১৩ হাজার ৭৯০ টাকা। তার গ্রেডের পুরোনো স্কেলের শুরু ছিল ১২ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন থেকে তিনি ১ হাজার ২৯০ টাকা বেশি পাচ্ছিলেন। এখন যদি নতুন পে-স্কেলে ওই গ্রেডের শুরু হয় ২৫ হাজার টাকা, তবে ২৫ হাজার টাকার সাথে এই ১ হাজার ২৯০ টাকা যোগ করতে হবে। যোগফল দাঁড়াবে ২৬ হাজার ২৯০ টাকা। কিন্তু নতুন বেতন কাঠামোয় যদি ২৬ হাজার ২৯০ টাকার কোনো নির্দিষ্ট ধাপ না থাকে এবং তার পরবর্তী ধাপ হয় ২৬ হাজার ৩০০ টাকা, তবে তিনি নিয়ম অনুযায়ী উচ্চতর ধাপ অর্থাৎ ২৬ হাজার ৩০০ টাকা নতুন মূল বেতন হিসেবে পাবেন।
সুতরাং, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আলাদা কোনো দীর্ঘ জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে না। সরকারি গেজেট কার্যকর হওয়ার সাথেই মাউশির সমন্বয়ে নির্ধারিত নিয়মে হিসাব করে প্রত্যেকে তাদের নতুন স্কেলের সুবিধা পেতে শুরু করবেন।
পৃথক প্রজ্ঞাপন ছাড়াই শিক্ষকদের নতুন বেতন
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বড় খবর! নতুন পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত হতে আর কোনো আলাদা প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষা করতে হবে না। শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনই শিক্ষকদের জন্য প্রযোজ্য হবে। তবে নিয়ম অনুযায়ী ভাতা অপরিবর্তিত থাকলেও সরাসরি মূল বেতন বেড়ে যাবে।
নতুন পে-স্কেলে শিক্ষকদের বেতন হিসাবের গোপন নিয়ম ফাঁস!
আপনার নতুন বেতন কত হতে যাচ্ছে, তা নিজেই হিসাব করতে পারবেন এখন। নিয়ম খুব সহজ! ৩০ জুনে আপনার যে মূল বেতন ছিল, তা থেকে পুরোনো স্কেলের শুরুর টাকা বিয়োগ করুন। প্রাপ্ত বাড়তি টাকাটি এবার নতুন স্কেলের শুরুর টাকার সাথে যোগ করে দিন। যোগফল যদি নতুন কোনো ধাপের মাঝে পড়ে, তবে পাবেন তার চেয়েও ওপরের উচ্চতর ধাপের বেতন! পে-স্কেল সংক্রান্ত এই চমকপ্রদ আপডেটটি সঠিক সময়ে পেতে আমাদের পেজটি ফলো করে রাখুন।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি