Print Date & Time : 20 October 2026 Tuesday 01:48 pm

সিরাজগঞ্জে ছয় বছরেও চালু হয়নি ট্রমা সেন্টার

image

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের পাশে ১০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ২০ শয্যার ট্রমা সেন্টার। ২০২০ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলেও ছয় বছরেও চালু হয়নি হাসপাতালটি। প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে এর কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ। অন্যদিকে অব্যবহারে নষ্ট হচ্ছে ভবনের বিভিন্ন অংশ, চুরি হয়েছে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার।


স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে মুলিবাড়ী এলাকায় নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০২১ সালের জুনে হাসপাতালটি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হাসপাতালের জন্য ১৪ জন চিকিৎসক, ১০ জন নার্সসহ ৩৪টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব ছিল। পরে চারজন চিকিৎসকসহ ২০ জনের জনবল অনুমোদন দেওয়া হলেও তাদের পদায়ন এবং প্রয়োজনীয় শয্যা ও যন্ত্রপাতি বরাদ্দ হয়নি। ভবন সংস্কারে আরও ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

যমুনা সেতু ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়ক থেকে নলকা পর্যন্ত ৩৬টি দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৮৩ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা এলাকায় ৪৪টি দুর্ঘটনায় ৩৬ জন নিহত ও ১৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

বিআরটিএর সিরাজগঞ্জের মোটরযান পরিদর্শক তাজুল ইসলাম বলেন, যমুনা সেতু দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন চলাচল করে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া, রাজশাহী ও ঢাকায় নিতে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা লাগে। ট্রমা সেন্টারটি চালু হলে আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুবর রহমানও দুর্ঘটনায় হতাহতদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে দ্রুত হাসপাতালটি চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।

সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমিন বলেন, হাসপাতাল চালুর জন্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। জনবল অনুমোদন পেলেও পদায়ন এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বরাদ্দ না পাওয়ায় কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। তবে দ্রুত হাসপাতালটি চালুর আশা করছেন তারা।
নির্মাণের ছয় বছর পরও হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় দুর্ঘটনায় আহতদের জরুরি চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। কবে নাগাদ হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।