Print Date & Time : 20 October 2026 Tuesday 05:15 am

একীভূতকরণের চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক এখন সম্ভাবনার পথে

image

মো. খায়রুল হাসান

দেশের ৫টি ক্ষতিগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণের মধ্য দিয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সামনে চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী, দক্ষ ও সম্ভাবনাময় আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে ওঠার বিশাল সুযোগ রয়েছে। এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে গঠিত প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে দেশের অন্যতম বৃহৎ শাখা নেটওয়ার্ক, বিস্তৃত গ্রাহকভিত্তি, বিপুল মানবসম্পদ ও উল্লেখযোগ্য মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে।

তাই এর ভবিষ্যৎ মূল্যায়নে শুধু উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যার দিকে তাকালে চলবে না। বরং বিশাল অবকাঠামো, অভিজ্ঞ জনবল, মূলধনভিত্তি এবং ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে একটি টেকসই ব্যাংকিং মডেল গড়ে তোলা যায়, সেটিই হবে মূল বিবেচ্য বিষয়।

আমানতকারীর আস্থা: সংকট থেকে নতুন আশার পথে

একীভূত ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম শুরুর পর আমানতকারীদের আস্থা ধরে রাখা ছিল অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। শুরুতে অর্থ উত্তোলনের প্রবল আগ্রহ দেখা দিলেও সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। অনেক আমানতকারী অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পেয়েও তাৎক্ষণিকভাবে আমানত তুলে না নিয়ে ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। একই সময়ে নতুন গ্রাহকরাও হিসাব খুলে অর্থ জমা দিচ্ছেন। এটি নিঃসন্দেহে প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা।

একীভূতকরণ: সংকটের পাশাপাশি বড় সুযোগ

ব্যাংক একীভূতকরণের মূল উদ্দেশ্য হলো সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, পরিচালন ব্যয় কমানো, সুশাসন জোরদার এবং একটি টেকসই ব্যবসায়িক কাঠামো তৈরি করা। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রেও লক্ষ্যটি একই। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো পাঁচটি পৃথক প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, জনবল, প্রযুক্তি, নীতি ও সাংগঠনিক সংস্কৃতিকে দ্রুত একটি অভিন্ন কাঠামোয় নিয়ে আসা।

শুধু মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা একীভূত হলেই একটি প্রতিষ্ঠান প্রকৃত অর্থে একীভূত হয় না; প্রয়োজন অভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি, নীতি ও পরিচালন কাঠামো। এই প্রক্রিয়ায় বর্তমান বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্ক যেমন চ্যালেঞ্জ, তেমনি তা বড় সম্পদও।

দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক: বোঝা নয়, শক্তিতে রূপান্তরের সুযোগ

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের রয়েছে প্রায় ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম। এই বিস্তৃত নেটওয়ার্ক দেশের প্রায় সব অঞ্চলে ব্যাংকটির শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে। তবে সাবেক ৫ ব্যাংকের নেটওয়ার্ক একীভূত হওয়ায় কিছু এলাকায় কাছাকাছি একাধিক শাখা রয়েছে। একই ধরনের সেবা দেওয়ার জন্য এসব শাখা দীর্ঘদিন সমান্তরালভাবে পরিচালিত হলে ব্যয় বাড়তে পারে। তাই নেটওয়ার্কের যৌক্তিকীকরণ জরুরি।

তবে এর অর্থ নির্বিচারে শাখা বন্ধ করা নয়। প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক ও কৌশলগত পুনর্বিন্যাস। কোথায় পূর্ণাঙ্গ শাখা প্রয়োজন, কোথায় উপশাখা বা এজেন্ট ব্যাংকিং যথেষ্ট, কোথায় ডিজিটাল সেবা বাড়ানো সম্ভব এবং কোন অঞ্চলে ব্যবসার সম্ভাবনা বেশি—এসব বিবেচনায় নিয়ে নেটওয়ার্ক সাজাতে হবে।

একটি নতুন ব্যাংকের জন্য এমন বিস্তৃত দেশব্যাপী উপস্থিতি গড়ে তুলতে বহু বছর ও বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন হতো। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক শুরুতেই সেই অবকাঠামো পেয়েছে। সঠিক পরিকল্পনায় এটি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম বড় প্রতিযোগিতামূলক শক্তিতে পরিণত হতে পারে।

দেশের প্রায় ৩০০টি উপজেলা বা থানা পর্যায়ে ব্যাংকটির কোনো শাখা নেই। গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র, হাট-বাজার ও শিল্পাঞ্চলেও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চল, কৃষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা অর্থায়ন, রেমিট্যান্স এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে এই নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আর্থিক ভিত্তি: বড় মূলধন, বড় দায়িত্ব

প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম বড় শক্তি হলো এর মূলধনভিত্তি। সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ১৫ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ায় ব্যাংকটি ৩৫ হাজার কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে যাত্রা করেছে। ৫টি দুর্বল ব্যাংকের উত্তরাধিকার বহনকারী একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সুরক্ষা তৈরি করেছে। তবে বড় মূলধন নিজে সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়। এর প্রকৃত মূল্য তখনই তৈরি হয়, যখন তা উৎপাদনশীল ও লাভজনক বিনিয়োগে ব্যবহৃত হয়, ঝুঁকি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং টেকসই আয় নিশ্চিত হয়।

অন্যদিকে ৫টি ব্যাংকের সম্মিলিত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ লাখ ৬৬ হাজার কোটি টাকা, যা তাদের বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় ৮৪.২২ শতাংশ। ফলে খেলাপি ঋণ আদায় ও সম্পদের মানোন্নয়ন হবে নতুন প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ কৌশল। প্রকৃত ব্যবসায়িক সমস্যায় পড়া গ্রাহকদের জন্য বাস্তবসম্মত পুনর্গঠন বা সমঝোতার সুযোগ রাখা যেতে পারে। বিপরীতে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি, জালিয়াতি বা অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। অর্থাৎ, পুনরুদ্ধার ও সংস্কার—দুটিই সমান্তরালভাবে এগিয়ে নিতে হবে।

১৬ হাজার কর্মী: ব্যয়ের চাপ নাকি প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি?

প্রায় ১৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক কার্যক্রম শুরু করেছে। এত বড় জনবল কাঠামো পরিচালন ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। তবে দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগাতে পারলে এই মানবসম্পদই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম বড় শক্তিতে পরিণত হবে। ৫টি ব্যাংকের কর্মীদের শাখা ব্যাংকিং, বিনিয়োগ, বৈদেশিক বাণিজ্য, রেমিট্যান্স, রিকভারি, এজেন্ট ব্যাংকিং, ডিজিটাল ব্যাংকিং, শরিয়াহ ও কমপ্লায়েন্সসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই মানবসম্পদ পুনর্গঠনের অর্থ কেবল কর্মী কমানো হওয়া উচিত নয়; বরং সঠিক দক্ষতার মানুষকে উপযুক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

অভিন্ন গ্রেডিং ও বেতন কাঠামো, দায়িত্বের সুস্পষ্ট বিভাজন, কর্মদক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়ন, প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুনঃপদায়নের মাধ্যমে এই বিশাল জনবলকে কার্যকর মানবসম্পদে রূপ দেওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে যেসব পদ, বিভাগ বা কার্যক্রমে অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি রয়েছে, সেগুলো যৌক্তিকভাবে সমন্বয় করতে হবে। এতে ব্যয় কমার পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সেবার গতি বাড়বে।

প্রযুক্তি হবে নতুন ব্যাংকের মেরুদণ্ড

প্রকৃত একীভূতকরণ শুধু নাম, সাইনবোর্ড বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পরিবর্তনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় না। এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো প্রযুক্তিগত সংহতি। কোর ব্যাংকিং সিস্টেম, সুইফট, আরএমএ, কার্ড, এটিএম, ডিজিটাল ব্যাংকিং, মোবাইল অ্যাপ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, হিসাব ও রিপোর্টিং—সবকিছুকে একটি সমন্বিত প্রযুক্তি কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।

এখানেও রয়েছে বড় সুযোগ। পুরোনো ৫ প্রতিষ্ঠানের বিচ্ছিন্ন প্রযুক্তি ব্যবস্থাকে শুধু একীভূত না করে আরও আধুনিক, নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও গ্রাহকবান্ধব ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা যেতে পারে। ভবিষ্যতের ব্যাংকিং হবে ‘শাখা বনাম ডিজিটাল’ নয়; বরং শাখা ও ডিজিটালের সমন্বিত ব্যবস্থা। বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্কের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তিসেবা যুক্ত করতে পারলে প্রতিষ্ঠানটি একই সঙ্গে প্রচলিত ও নতুন প্রজন্মের গ্রাহকদের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছাতে পারবে।

ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদা: বড় বাজার, বড় সম্ভাবনা

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সম্ভাবনার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হলো দেশে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদা। ইসলামী ব্যাংকিং এখন আর সীমিত কোনো বিশেষায়িত সেবা নয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শরিয়াহসম্মত আমানত, বিনিয়োগ, রেমিট্যান্স, কার্ড, ডিজিটাল পেমেন্ট, ভোক্তা অর্থায়ন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা অর্থায়নের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন।

বিশেষ করে তরুণ ও প্রযুক্তিনির্ভর গ্রাহকদের প্রত্যাশা আরও বিস্তৃত। তাঁরা শুধু ‘ইসলামী’ পরিচয়ের সেবা চান না; চান শরিয়াহসম্মত, দ্রুত, স্বচ্ছ, নিরাপদ ও আধুনিক ব্যাংকিং। এই পরিবর্তিত চাহিদা ব্যাংকটির সামনে একটি বড় বাজার তৈরি করেছে।

দেশব্যাপী শাখা ও এজেন্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দেশ-বিদেশের নতুন প্রজন্মের গ্রাহকদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা সম্ভব। তাই বিশ্বাসযোগ্য ইসলামী ব্যাংকিং ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক কৌশলের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হতে পারে।

শুধু ‘ইসলামী’ পরিচয় নয়, প্রয়োজন শক্তিশালী শরিয়াহ গভর্ন্যান্স

ইসলামী ব্যাংকিংয়ের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে গ্রাহকের প্রত্যাশাও পরিবর্তিত হয়েছে। এখন কোনো পণ্যের নামের সঙ্গে ‘ইসলামী’ শব্দ থাকলেই গ্রাহক সন্তুষ্ট হবেন না। তারা জানতে চান—পণ্যটি কীভাবে কাঠামোবদ্ধ, বিনিয়োগ কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, মুনাফা কীভাবে নির্ধারিত হচ্ছে এবং শরিয়াহ নীতিমালা বাস্তবে কতটা অনুসরণ করা হচ্ছে।

এ কারণে শক্তিশালী শরিয়াহ গভর্ন্যান্স কাঠামো অপরিহার্য। শরিয়াহ বোর্ড, শরিয়াহ কমপ্লায়েন্স, শরিয়াহ অডিট, পণ্য অনুমোদন, বিনিয়োগ কাঠামো এবং শরিয়াহ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে মূল ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করতে হবে। এতে শুধু শরিয়াহসম্মত ব্যাংকিং নিশ্চিত হবে না; প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গ্রাহকের আস্থাও বাড়বে।

সামনে বিশাল সুযোগের অবারিত সম্ভাবনা

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সামনে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা পাশাপাশি রয়েছে। একদিকে বিপুল খেলাপি ঋণ, পরিচালন ব্যয়, জনবল সমন্বয়, শাখা পুনর্বিন্যাস এবং প্রযুক্তি একীভূতকরণের মতো কঠিন কাজ; অন্যদিকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন, দেশের অন্যতম বৃহৎ শাখা ও এজেন্ট নেটওয়ার্ক, প্রায় ১৬ হাজার কর্মীর অভিজ্ঞতা, বিস্তৃত গ্রাহকভিত্তি এবং ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ক্রমবর্ধমান বাজার।

এসব সম্পদ পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে পারলে ব্যাংকটি শুধু ৫টি প্রতিষ্ঠানের সমষ্টি হয়ে থাকবে না; বরং বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকিংয়ে একটি নতুন মানদণ্ড তৈরির সুযোগ পাবে। এর জন্য প্রয়োজন তিনটি সমান্তরাল উদ্যোগ— অতীতের সমস্যা সমাধান, বর্তমান ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতের জন্য আধুনিক ব্যাংকিং মডেল তৈরি।

একীভূতকরণকে শুধু ৫টি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ হিসেবে দেখলে এর সম্ভাবনার বড় অংশ অদৃশ্য থেকে যাবে। এটি একই সঙ্গে ব্যাংকিং পুনর্গঠন, আস্থা পুনর্নির্মাণ এবং দেশের ক্রমবর্ধমান ইসলামী ব্যাংকিং চাহিদা পূরণের একটি বড় সুযোগ। সাফল্যের ভিত্তি হবে আর্থিক শৃঙ্খলা, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা, শক্তিশালী সুশাসন, কার্যকর শরিয়াহ গভর্ন্যান্স এবং গ্রাহকের আস্থা।

বড় শাখা নেটওয়ার্ককে দক্ষ নেটওয়ার্কে রূপান্তর করতে হবে, জনবলকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে, মূলধনকে উৎপাদনশীল বিনিয়োগে কাজে লাগাতে হবে এবং ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদা আধুনিক প্রযুক্তি ও মানসম্পন্ন সেবার মাধ্যমে পূরণ করতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, অতীতের দুর্বলতা যেন নতুন প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ না করে। বরং সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ, দক্ষ ও গ্রাহককেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। ৫টি ব্যাংককে একীভূত করা ছিল প্রথম ধাপ। এখন মূল কাজ হলো ৫টি ভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে একটি অভিন্ন সংস্কৃতি, শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা কাঠামো এবং বিশ্বাসযোগ্য ইসলামী ব্যাংকিং মডেলে রূপান্তর করা।

লেখক: ব্যাংকার ও আর্থিক খাতের বিশ্লেষক