অনলাইন ডেস্ক: ১৮ বছর বয়সে যে জার্সি গায়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পথচলা শুরু করেছিলেন, ৩৯ বছর বয়সে সেই আন্টেনার জার্সিতেই শেষবার মাঠে নামলেন লিওনেল মেসি। দুই দশকের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলে মাঠ মাতানো কিংবদন্তির শেষ হলো আন্তর্জাতিক অধ্যায়।
প্রতিপক্ষ বেনিন। ম্যাচটি শুধুই একটি প্রীতি ম্যাচ নয়। আর্জেন্টিনার জন্য এটি মেসিকে বিদায় জানানোর বিশেষ আয়োজন। বুয়েন্স আয়ার্সের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে হয় এই ঐতিহাসিক ম্যাচ।
মেসির বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে পূর্ণ হয়ে যায় স্টেডিয়ামের গ্যালারি। প্রায় ৮৫ হাজার দর্শকের সামনে শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে লিওনেল মেসি। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দলের সতীর্থ ও তাদের পরিবারের অনেক সদস্যও থাকবেন এই বিশেষ আয়োজনে।
এই ম্যাচে ফলাফলের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে একজন কিংবদন্তিকে বিদায় জানানোর মুহূর্ত।
আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৮ ম্যাচে ১২৬ গোল করেন মেসি। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। তার নেতৃত্বেই ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ বিশ্বকাপ জেতে আর্জেন্টিনা।
মেসির আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ হলেও ফুটবল থেকে এখনই বিদায় নিচ্ছেন না তিনি।
ক্লাব ফুটবলে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলবেন আরও কিছুদিন।
অর্থাৎ, মেসিকে মাঠে দেখার সুযোগ থাকছে। কিন্তু আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে আর নয়।
একসময় জাতীয় দলের হয়ে মেসিকে ঘিরে ছিল সমালোচনা। অভিযোগ ছিল, ক্লাবে যতটা উজ্জ্বল, দেশের হয়ে ততটা নন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই গল্প বদলে যায়। কোপা আমেরিকার শিরোপা, বিশ্বকাপ জয়-সবকিছু দিয়ে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার মানুষের ভালোবাসা জয় করেন মেসি। আর এবার সেই ভালোবাসার বিনিময়ে আসছে বিদায়ের মুহূর্ত।
শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সি। শেষবারের মতো জাতীয় দলের মাঠ। শেষবারের মতো গ্যালারি থেকে শোনা যাবে মেসি… মেসি… মেসি। ফুটবলের একটি অধ্যায় শেষ হবে।
কিন্তু মেসির গল্প? সেটি থেকে যাবে ফুটবল ইতিহাসের পাতায়।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি