Print Date & Time : 22 October 2026 Thursday 02:19 am

সিলেটে মাজার-মসজিদ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১

image

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় একটি মাজার ও মসজিদের পরিচালনা কমিটির আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ২ ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে রাসেল আহমদ (২৩) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের চকের বাজার এলাকার ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহ তৈয়ব ছৈলানি (রহ.) মসজিদ ও ঈদগাহ প্রাঙ্গণে এ সংঘাতের ঘটনা ঘটে।

নিহত রাসেল আহমদ উপজেলার সিলাম চকের বাজার এলাকার শারুক মিয়ার ছেলে। তার মরদেহ সুরতহাল শেষে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হযরত শাহ তৈয়ব ছৈলানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা নিয়ে স্থানীয় শেখপাড়া গ্রামের দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলছিল। গত ২৯ জুলাই ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়াকফ প্রশাসন থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সহ-সভাপতি করে ৯ সদস্যের একটি নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে ফজলু মিয়াকে মোতাওয়াল্লি মনোনীত করা হলে অপর পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে। ১৬ আগস্ট আদালত কমিটি বহাল রেখে মোতাওয়াল্লি পদে রদবদল আনলে এলাকায় উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে।

এরই জেরে গত ২২ আগস্ট প্রথম দফায় উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়, যাতে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে আজ শুক্রবার জুমার নামাজ শেষ হওয়া মাত্রই মসজিদ প্রাঙ্গণে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, রামদা ও ইটপাটকেল নিয়ে মুখোমুখি সংঘাত ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সহিংসতায় ইটপাটকেলের আঘাতে ও অস্ত্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই রাসেলের মৃত্যু হয় এবং উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন রক্তাক্ত আহত হন।

দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান জানান, "আধিপত্য ও কমিটির বিরোধে রাসেল নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ কাজ করছে।"

মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, জুমার পর হঠাৎ দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘাতের পর বর্তমানে পুরো এলাকা চরম উত্তপ্ত রয়েছে। পুনরায় সহিংসতা এড়াতে এলাকায় বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি