Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 12:15 pm

ইসলামী ব্যাংকে ৮ বছরে পরীক্ষা ছাড়া ৮৫৪২ নিয়োগ

image

অনলাইন ডেস্ক: দেশের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে বড় ধরনের নিয়োগ অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত কোনো ধরনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই কেবল জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা নিয়ে অন্তত ৮ হাজার ৫৪২ জন কর্মীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য সামনে এসেছে।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংকটির বিতর্কিত নিয়োগ এবং পরবর্তীতে পরিচালিত ছাঁটাই প্রক্রিয়া পর্যালোচনায় চলতি বছরের এপ্রিলে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংকটিতে মোট ১০ হাজার ৮৩২ জন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। অর্থাৎ, এই সময়ে নিয়োগ পাওয়া মোট জনবলের প্রায় ৮০ শতাংশই এসেছেন কোনো ধরনের প্রতিযোগিতা ছাড়া। ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট নাগাদ ইসলামী ব্যাংকে মোট কর্মী সংখ্যা দাঁড়ায় ২১ হাজার ৫৫১ জনে, যার প্রায় অর্ধেকই বিগত সাত বছরে নিয়োগপ্রাপ্ত।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগ পাওয়া ৮ হাজার ৫৪২ জন কর্মীর বড় একটি অংশই নির্দিষ্ট একটি আঞ্চলিক বলয় থেকে এসেছেন। এদের মধ্যে ৮ হাজার ৯৯ জনের বাড়িই চট্টগ্রাম জেলায় এবং এককভাবে পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা ৫ হাজার ১৪৮ জন। জানা গেছে, চট্টগ্রামের পটিয়া ও আসাদগঞ্জের বিশেষ কিছু নির্ধারিত স্থানে প্রার্থীদের সিভি জমা নিয়ে সরাসরি নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছিল।

আরও জানা যায়, সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকে একটি মূল্যায়ন পরীক্ষার পর ঢালাও কর্মী ছাঁটাই শুরু হয়। এর প্রতিবাদে ব্যাংকের সচেতন গ্রাহক ফোরামের বিভিন্ন পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ব্যাংক এই বিশেষ পরিদর্শন পরিচালনা করে। তবে প্রতিবেদনে কোনো ধরনের সরাসরি সুপারিশ না করে কেবল সার্বিক পরিস্থিতি ও তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে জানান, কর্মী নিয়োগ বা ছাঁটাইয়ের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ এখতিয়ার। ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি হস্তক্ষেপ সমীচীন নয়।

—জা.অর্থনীতি/আরএস