Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 03:43 am

চেয়ারম্যান নির্বাচনে জামানত ২৫ হাজার, সমান ভোটে ফের নির্বাচন

image

অনলাইন ডেস্ক: দেশের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের বিধিমালা সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর সংশোধনী এনে নতুন গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন এই বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানতের পরিমাণ বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা এবং সাধারণ সদস্য প্রার্থীর জামানত বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচনে কোনো প্রার্থী প্রদত্ত মোট ভোটের ১৫ শতাংশের কম পেলে তার জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত হবে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে।

সংশোধিত বিধিমালায় দেখা গেছে, প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের সীমানাতেও পরিবর্তন এনেছে কমিশন। এখন থেকে একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এবং সাধারণ সদস্য পদপ্রার্থী সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে পারবেন। সব প্রকার নির্বাচনী ব্যয় পরিচালনায় প্রার্থী বা তার এজেন্টের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে ২০ হাজার টাকার বেশি কোনো লেনদেন ব্যাংকিং মাধ্যম ছাড়া সম্পন্ন করা যাবে না। 

এছাড়া মনোনয়নপত্রের সঙ্গে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার বিশেষ কিছু শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। প্রার্থী ও তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের দেশে এবং বিদেশে থাকা যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব হলফনামার মাধ্যমে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রার্থীর সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্রও জমা দিতে হবে।

ইসি জানায়, নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে অপরাধের শাস্তির বিধানেও কঠোরতা আনা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তাদের সমর্থক কাউকে হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। মারাত্মক অপরাধের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে। 

নতুন বিধিমালায় নির্বাচনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হলো সমান ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে লটারির নিয়ম বাতিল করা। প্রার্থীরা সমান ভোট পেলে এখন আর লটারির মাধ্যমে জয়-পরাজয় নির্ধারণ করা হবে না, বরং সমতা হওয়া কেন্দ্রগুলোতে পুনরায় ভোট গ্রহণ করা হবে।

এছাড়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ সহজ করতে বিশেষ সুযোগ যুক্ত করা হয়েছে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে এমন ভোটাররা ভোটদানের জন্য অন্তত ২১ বছর বয়সী একজন সহায়তকারী সঙ্গে নিতে পারবেন। তবে কোনো প্রার্থী, প্রার্থীর এজেন্ট, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এই সহায়তকারী হতে পারবেন না। এই সহায়তাকারীকে ভোটারের পছন্দের গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে এবং প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এসব ভোটারের একটি পৃথক তালিকা সংরক্ষণ করবেন।

—জা.অর্থনীতি/আরএস