Print Date & Time : 25 October 2026 Sunday 04:57 pm

প্রেমে রাজি না হওয়ায় ছাত্রীর দাঁত ভেঙ্গে দিল যুবক

image

বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার বেতাগীতে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়া এবং উত্ত্যক্তের অভিযোগ পুলিশকে জানানোয় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ফয়সাল মৃধা নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর তিনটি দাঁত উপড়ে গেছে এবং দুটি দাঁত ভেঙে গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের গাবতলী এলাকায় ওই ছাত্রীকে ঘুষি ও লাথি মারার অভিযোগ ওঠে ফয়সালের বিরুদ্ধে। পরে সহপাঠীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে শিক্ষকরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

আহত ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, ফয়সাল মৃধা বিভিন্ন সময় ওই শিক্ষার্থীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে বাড়ির বাইরে টয়লেটে গেলে দরজার ফাঁক দিয়ে ফয়সাল তার শরীরে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ছাত্রীর চিৎকারে পরিবারের লোকজন এগিয়ে এলে তিনি পালিয়ে যান।

ঘটনার পর শিক্ষার্থীর মা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।

তবে এর দুই দিন পর সোমবার স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওই শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে ফয়সালের বিরুদ্ধে। এতে গুরুতর আহত হয় শিশুটি।

আহত শিক্ষার্থী জানায়, ফয়সাল তাকে বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে রাস্তাঘাটে উত্ত্যক্ত করতেন। শনিবার টয়লেটে গেলে তিনি তার শরীরে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে সোমবার বাড়ি ফেরার পথে তাকে ঘুষি ও লাথি মারা হয়।

এ ঘটনায় সোমবার রাতে শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে বেতাগী থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ ফয়সালকে না পেয়ে তার মা মোসা. শিরিনকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিস বলেন, শনিবার পুলিশের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছিল। তখন ফয়সালের মা পুলিশে অভিযোগ করার কারণে তাদের ফল ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন। সোমবারের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ননী গোপাল মালাকার বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন-অর-রশীদ হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলার আসামি ফয়সালের মা শিরিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ