অনলাইন ডেস্ক: ধারালো নখ, শক্তিশালী চোয়াল কিংবা অসাধারণ শারীরিক শক্তি-কোনোটিই মানুষের প্রধান বৈশিষ্ট্য নয়। তবু বিবর্তনের ধারায় পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রজাতিতে পরিণত হয়েছে মানুষ। এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে মানুষের তুলনামূলক কম ঘুমের সময়কে চিহ্নিত করেছেন কানাডার টরন্টো মিসিসগা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্লিপ অ্যান্ড হিউম্যান ইভল্যুশন’-এর পরিচালক ডেভিড স্যামসন।
মানুষের ঘুম নিয়ে গবেষণা করা স্যামসন এ বিষয়ে ‘দ্য স্লিপলেস এপ: দ্য স্টোরি অব স্লিপ ইন হিউম্যান ইভল্যুশন’ নামে একটি বইও লিখেছেন। তার মতে, অন্যান্য বানর ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর তুলনায় মানুষের ঘুম কম হলেও তা তুলনামূলক গভীর এবং কার্যকর।
শহুরে মানুষ সাধারণত প্রতিদিন প্রায় সাত ঘণ্টা ঘুমায়। শিকার ও সংগ্রহনির্ভর জীবনযাপন করা কিছু জনগোষ্ঠীর মানুষের ঘুমের সময় এর চেয়ে প্রায় ৪৫ মিনিট বেশি। বিপরীতে শিম্পাঞ্জিরা দিনে প্রায় সাড়ে নয় ঘণ্টা ঘুমায়। কিছু নিশাচর বানর দিনে প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকে।
স্যামসনের মতে, মানুষের ঘুমের প্রায় ২৫ শতাংশ র্যাপিড আই মুভমেন্ট বা আরইএম পর্যায়ের। অন্যান্য স্তন্যপায়ীর ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৫ শতাংশ। এই গভীর ঘুম মানুষের স্মৃতি ও শেখার ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে বলে মনে করা হয়।
প্রায় এক লাখ বছর আগে মানুষ গাছ থেকে নেমে মাটিতে ঘুমাতে শুরু করে। নিরাপত্তার জন্য দলবদ্ধ হয়ে ঘুমানো এবং একদল ঘুমানোর সময় অন্য দলের পাহারা দেওয়ার মাধ্যমে তারা ঝুঁকি কমায়।
পরে আগুনের ব্যবহার রাতের অন্ধকার ও শীত দূর করার পাশাপাশি মানুষের জেগে থাকার সময় বাড়িয়ে দেয়। এই অতিরিক্ত সময়ে সামাজিক যোগাযোগ, গল্পগুজব, অস্ত্র তৈরি ও শিকারের নতুন কৌশল নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়। স্যামসনের মতে, কম ঘুম ও বেশি জেগে থাকার এই অভ্যাসই মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ এবং পৃথিবীতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
জা.অর্থনীতি/এসআই