জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: নতুন পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দুই বছরে আইএফআইসি ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার উন্নতির বদলে অবনতি হয়েছে। বেড়েছে খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি ও লোকসান; কমেছে মূলধন পর্যাপ্ততা। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ব্যাংকটির সমন্বিত নিট লোকসান হয়েছে ১ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা। এ যেন উন্নতির বদলে পতনের ধারায় আইএফআইসি ব্যাংক।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আগের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন পর্ষদ গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। চেয়ারম্যান করা হয় মো. মেহমুদ হোসেনকে। তিনজন স্বতন্ত্র পরিচালকও রাখা হয় । নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর খেলাপি ঋণের হার ২০২৩ সালের ৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ থেকে ২০২৪ সালে বেড়ে ৫৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৬১ দশমিক ৪৭ শতাংশে দাঁড়ায়। জুন ২০২৬ শেষে তা আরও বেড়ে হয়েছে ৬৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
এ সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৫২০ কোটি টাকা। প্রয়োজনীয় ২২ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকার বিপরীতে প্রভিশন রাখা হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি ২১ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা।
লোকসানও বেড়েছে ধারাবাহিকভাবে। ২০২৩ সালে ৩০১ কোটি টাকা মুনাফা করা ব্যাংকটি ২০২৪ সালে ১২০ কোটি ৬২ লাখ টাকা লোকসান করে। ২০২৫ সালে লোকসান বেড়ে হয় ২ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে লোকসান ১ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা; গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ১২৮ কোটি।
মূলধন পর্যাপ্ততার হার ১২ দশমিক ৭৪ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশে নেমেছে। ২০২৫ সালে মূলধন কমে ৩ হাজার ৬৬২ কোটি থেকে ১ হাজার ৬৪ কোটি টাকা এবং মূলধন ঘাটতি বেড়ে ৪ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা হয়েছে। ২০২৬ সালের জুন শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও ঋণাত্মক হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে চেয়ারম্যানের দৈনন্দিন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ, নিয়োগে পর্ষদের প্রভাব এবং পরিচালকদের ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা সম্মানী নেওয়ার বিষয়ও উঠে এসেছে। বিদেশ সফরে ২০১২-২০২৫ সময়ে ব্যয় হয়েছে ৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা; শুধু ২০২৫ সালে ছয় কর্মকর্তার সফরে খরচ ৯১ লাখ ১৯ হাজার টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সার্বিক বিষয়ে জাতীয় অর্থনীতিকে বলেন, আইএফআইসি ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালকদের অনিয়মের সত্যতা এবং পারফরম্যান্স ঘাটতির প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ব্যাংকটিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সার্বিক অর্থনৈতিক সূচকের উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়েছিল। যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ উঠে আসে, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজ উদ্যোগেই তা পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেবে।
একদিকে বাড়ছে খেলাপি ঋণ ও লোকসান, অন্যদিকে কমছে মূলধন। সঙ্গে রয়েছে ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নানা পর্যবেক্ষণ। সব মিলিয়ে আইএফআইসি ব্যাংকের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ- আর্থিক সংকট কাটিয়ে স্থিতিশীলতায় ফেরা।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি