Print Date & Time : 24 October 2026 Saturday 10:20 am

সারের জন্য কৃষকের ছোটাছুটি, কোথাও সংকট কোথাও দাম বেশি

image

তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে আমন মৌসুম শুরুর সাথে সাথেই মাঠজুড়ে কৃষকদের ব্যস্ততা বাড়লেও দেখা দিয়েছে চরম সার সংকট। আমন আবাদের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এক বাজার থেকে অন্য বাজারে ঘুরেও প্রয়োজন অনুযায়ী ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার পাচ্ছেন না কৃষকেরা। কোথাও অল্প পরিমাণ পাওয়া গেলেও গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা, ফলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) উপজেলার মাঠপর্যায়ে ঘুরে সার সংকটের এই মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। 

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তাড়াইলের ৭টি ইউনিয়নে ৭ হাজার ৮২৩ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৪৫৩ হেক্টর জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। এই আবাদের বিপরীতে সরকারিভাবে ইউরিয়া ৩ হাজার ৪৩০ মেট্রিক টন, টিএসপি ৯০১ মেট্রিক টন, ডিএপি ১ হাজার ৮৬৮ মেট্রিক টন এবং এমওপি ১ হাজার ২৯৪ মেট্রিক টন বরাদ্দ দেওয়া হয়। 

কৃষক ছিদ্দিকুর রহমান, হাবিবুর রহমানসহ একাধিক চাষি অভিযোগ করেন, সার কিনতে ডিলারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তারা খালি হাতে ফিরছেন কিংবা চড়া দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

সারের সংকটের কথা স্বীকার করে তাড়াইল-সাচাইল ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার মেসার্স শাহাব উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, গত বছরের তুলনায় সরকারি বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় তারা চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ করতে পারছেন না। 

তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিকাশ রায় সংকটের বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেন, উপজেলায় চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে এবং তদারকির মাধ্যমেই সার বিতরণ করা হচ্ছে। তা সত্ত্বেও কৃষকরা কেন সার পাচ্ছেন না, তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি