Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 05:22 pm

সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে যা অগ্রাধিকার পাচ্ছে

image

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় কমিটি গঠন এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিল পাসকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেছেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সদস্যদের নাম পাওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো চূড়ান্ত করা হবে। সংক্ষিপ্ত এ অধিবেশন প্রয়োজন হলে সময় বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।

বুধবার সংসদ ভবনে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চীফ হুইপ এসব কথা বলেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

চীফ হুইপ জানান, এবারের অধিবেশনে প্রায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপিত হতে পারে। এর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম এবং মানবাধিকার সুরক্ষা-সংক্রান্ত বিল রয়েছে।

সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনের বিষয়ে তিনি বলেন, বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও তাঁরা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহারের অধিকার বজায় রাখবেন। সম্পত্তি হস্তান্তরের পর বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের অবহেলা ঠেকাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, জুলাই সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইনে পরিবর্তন আনা হবে। সংবিধানের একটি কমা, দাঁড়ি বা সেমিকোলনের পরিবর্তনও সংস্কারের অংশ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি জানান, সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এতে বিএনপির সাতজন এবং জামায়াতের পাঁচজন সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ছোট দলগুলো থেকেও সদস্য রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। বিরোধী দল তাদের সদস্যদের নাম দিলে তাঁদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন চীফ হুইপ। তাঁর মতে, সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানানো বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্ব। সংসদের বাইরে অস্থিরতা সৃষ্টি না করে জনগণের সমস্যা সংসদে তুলে ধরে আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করার আহ্বান জানান তিনি।

চলমান সংকট সমাধানে সময়ের প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে চীফ হুইপ বলেন, কোনো সরকারের পক্ষেই মাত্র ছয় মাসে দীর্ঘদিনের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের মতো বড় অবকাঠামো বাস্তবায়নে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন চুক্তি নিয়ে সমালোচনা করে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে করা কিছু চুক্তি দেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার কারণে জনগণের অর্থের ওপর বড় চাপ পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আদানির সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তিকে ‘গর্হিত অপরাধ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ চুক্তির কারণে বাংলাদেশকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। দেশের স্বার্থে এসব চুক্তির অর্থনৈতিক চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

চীফ হুইপ বলেন, তৃতীয় অধিবেশনের মাধ্যমে সংসদীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন, সংসদীয় কমিটির কার্যকারিতা বাড়ানো এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

—জা.অর্থনীতি/আরএস