Print Date & Time : 25 October 2026 Sunday 09:02 pm

চট্টগ্রামকে বৈশ্বিক নগরীতে রূপান্তরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার তাগিদ

image

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের নগরীতে রূপান্তর করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, নগর পরিকল্পনাবিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিপিডিএলের গ্যালারিয়া অ্যাম্বিয়েন্স হলে ‘চট্টগ্রামের ভবিষ্যতের সঙ্গে সংযোগ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ আহ্বান জানান।

সভায় চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, পেশাজীবী, নগর পরিকল্পনাবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় নগরীর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ণ, বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের বিভিন্ন দিক উঠে আসে।

সিপিডিএল পরিবারের প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার ইফতেখার হোসেন বলেন, শুধু উন্নত অবকাঠামো নির্মাণ করলেই একটি শহর বৈশ্বিক নগরীতে পরিণত হয় না। এর জন্য আন্তর্জাতিক মানের সেবা, আধুনিক জীবনযাপনের সুযোগ, আকর্ষণীয় গন্তব্য, ব্যবসা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনার পাশাপাশি মানুষের জন্য উন্নত নগর অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের বিদ্যমান সম্ভাবনাকে ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সিপিডিএল বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে আরও বিকশিত করে একটি আধুনিক ও বৈশ্বিক নগরীতে রূপান্তরের এই যাত্রায় সিপিডিএলের ‘অ্যামেজিং চট্টগ্রাম’ ভাবনা ও সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নতুন নগর অভিজ্ঞতার উদ্যোগ

অনুষ্ঠানে সিপিডিএলের প্রধান কৌশলগত কর্মকর্তা জিয়াউল হক প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও নগরজীবনের মানোন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে সিপিডিএল।

‘অ্যামেজিং চট্টগ্রাম’ ভাবনার অন্যতম প্রকল্প ‘মল অব চট্টগ্রাম’। এটিকে চট্টগ্রামের প্রথম গন্তব্যভিত্তিক বিপণিবিতান হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পটিতে শুধু কেনাকাটার সুযোগ নয়, কেনাকাটা, খাবার, বিনোদন, অবসর ও পারিবারিক সময় কাটানোর সমন্বিত অভিজ্ঞতা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

জিয়াউল হক বলেন, পরিবর্তনশীল জীবনযাত্রা ও নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশাকে বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পটি চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক ও জীবনযাপনকেন্দ্রিক পরিসরে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

এ ছাড়া ফয়’স লেক রোডে ‘গ্যালারিয়া, ইউর সেকেন্ড হোম’ নামে একটি উন্নতমানের আতিথেয়তা প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। আবাসন, রেস্তোরাঁ, সাঁতার পুল, ব্যায়ামাগার ও ভোজসভা হলসহ বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে প্রকল্পটি চট্টগ্রামের আতিথেয়তা খাতে নতুন অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

সমন্বিত পরিকল্পনার তাগিদ

আলোচনায় বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প প্রয়োজন। এসব উদ্যোগ নগরীর অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রা, নগর অভিজ্ঞতা এবং চট্টগ্রামের সামগ্রিক পরিচিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক বলেন, সিপিডিএল চট্টগ্রামকে নিয়ে যে স্বপ্ন ও আশা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তা সফল হবে বলে তিনি আশা করেন। তবে চট্টগ্রাম সামগ্রিকভাবে এখনও পিছিয়ে আছে। নগরীতে অনেক উন্নয়ন হয়েছে সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে।

তিনি বলেন, “চট্টগ্রামকে এগিয়ে নিতে হলে সবার সমন্বিত উদ্যোগ ও পরিকল্পনা দরকার।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমদ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নুরুল করিম, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সহসভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, স্থপতি আশিক ইমরান এবং বারকোড গ্রুপের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল হকসহ অন্যরা।

—জা.অর্থনীতি/জেআরটি