Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 01:30 am

শাহ তৈয়ব ছয়লানী ওয়াকফ কমিটি নিয়ে হাইকোর্টের রুল

image

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের দক্ষিণ সুরমার হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানী (রহ.) মাজার ওয়াকফ এস্টেটের নবগঠিত কমিটি নিয়ে হাইকোর্টে রুল জারি হয়েছে। কমিটিটি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

খাদিম পরিবারের সদস্য ও ওয়াকফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লী শাহ আব্দুল মান্নান হাইকোর্টে রিট পিটিশনটি দায়ের করেন। রিটের নম্বর ১০৭৬৭/২০২৬।

রিটের শুনানি শেষে আদালত চার সপ্তাহের রুল জারি করেন। একই সঙ্গে কমিটির কার্যক্রম নিয়েও আদালতের আদেশ এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে নবগঠিত কমিটির মোতাওয়াল্লীর কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করে আবেদ রাজাকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়, হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানী (রহ.) মাজার, মসজিদ, ঈদগাহ, কবরস্থানসহ সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে ওয়াকফ এস্টেটের আওতাভুক্ত। খাদিম পরিবারের সদস্যরা পর্যায়ক্রমে এ ওয়াকফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

আবেদনে আরও দাবি করা হয়, গত ২৯ জুলাই মাত্র এক দিনের আবেদনের পর ওয়াকফ প্রশাসক একটি নতুন কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটিতে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মালেককে সভাপতি এবং ফজলু মিয়াকে মোতাওয়াল্লী করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যদেরও মনোনয়ন দেওয়া হয়। নবগঠিত কমিটির সদস্যদের কেউই খাদিম পরিবারের সদস্য নন বলে রিটে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় খাদিম পরিবারের সদস্য মোতাওয়াল্লী শাহ আব্দুল মান্নান ওই কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন।

রিটে বলা হয়, এর আগে ১৯৫৩ সালের স্বত্ব মামলায় আইয়ুব শাহসহ খাদিম পরিবারের সদস্যদের মাজারের খাদেম ও ওয়াকফ সম্পত্তির মোতাওয়াল্লী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী আপিলেও ওই সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

এদিকে গত ২৯ জুলাই ওয়াকফ প্রশাসকের আদেশে ৯ সদস্যের কমিটি গঠনের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। কমিটিতে আব্দুল মালেককে সভাপতি, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সহসভাপতি এবং ফজলু মিয়াকে মোতাওয়াল্লী করা হয়।

রিটকারী পক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে খাদিম পরিবারের সদস্যরা ওয়াকফ এস্টেটের দায়িত্ব পালন করে আসার পর তাদের বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গঠন আইনসঙ্গত হয়নি।

আদালতের জারি করা রুলের মাধ্যমে এখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে এ কমিটি কেন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে হবে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি