Print Date & Time : 26 October 2026 Monday 01:49 am

কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক স্থগিত করলো যুক্তরাষ্ট্র

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা শেষ মুহূর্তে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। এর আওতায় কানাডার পণ্যের ওপর বড় ধরনের শুল্কারোপ আপাতত স্থগিত করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এতে নতুন করে বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কায় থাকা কানাডার রপ্তানিকারকেরা সাময়িক স্বস্তি পেয়েছেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, শুল্ক কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে এই ঘোষণা দেন ট্রাম্প। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাত থেকে কানাডার পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

ট্রাম্পের ঘোষণার কিছুক্ষণ পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও জানান, যুক্তরাষ্ট্র কানাডার পণ্যে শুল্কারোপ ২২ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত করেছে।

মঙ্গলবার ট্রাম্প ও কার্নি বৈঠক করেন। সেখানে আলোচনা শেষে শুল্ক স্থগিতের ঘোষণা আসে। কানাডার প্রায় ২০ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর এই শুল্ক বসার কথা ছিল। এর আওতায় ছিল ইলেকট্রনিক পণ্য, শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র, দুগ্ধজাত পণ্য ও ওয়াইনের মতো বিভিন্ন পণ্য।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, দুই দেশ একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। তবে চুক্তির নথি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি শুল্ক তিন দিনের জন্য স্থগিত রাখতে রাজি হয়েছেন।

ট্রাম্প বা কার্নি কেউই চুক্তির বিস্তারিত জানাননি। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বন্ধ থাকা কিস্টোন এক্সএল তেল পাইপলাইন প্রকল্প আবার চালুর বিষয়টি উঠে আসে।

কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইন প্রকল্পটি ২০০৮ সালে প্রস্তাব করা হয়েছিল। তীব্র বিরোধিতা ও নানা বাধার কারণে এটি এগোতে পারেনি। পাইপলাইনটি চালু হলে কানাডার আলবার্টা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা পর্যন্ত প্রতিদিন প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা সম্ভব হতো।

২০২১ সালে পরিবেশ ও অর্থনৈতিক কারণ দেখিয়ে পাইপলাইনটির যুক্তরাষ্ট্র অংশের গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন বাতিল করেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এর ফলে প্রকল্পটি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে, শুল্ক স্থগিতের সিদ্ধান্ত কানাডার রপ্তানিকারকদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে এসেছে। কারণ কানাডার রপ্তানিকারকেরা অন্য যেকোনো বাজারের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের ওপর বেশি নির্ভরশীল। কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রে যায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট রপ্তানির প্রায় ৩০ শতাংশ যায় কানাডায়।

—জা.অর্থনীতি/জেআরটি