Print Date & Time : 21 October 2026 Wednesday 10:26 pm

সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: তদন্ত সন্তোষজনক না হলে সিআইডিতে হস্তান্তরের দাবি

image

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট নগরীর রায়নগরে ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনার (১৫) চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহত দম্পতির প্রবাসী সন্তানরা। পুলিশি তদন্তে অসচ্ছতা বা অসন্তোষ দেখা দিলে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তরের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে রায়নগরের দুর্ঘটনাস্থল ‘মিতালী ১১১’ নম্বর বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পর পরিবারের সদস্যরা এই দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে নিহত দম্পতির ছেলে আরিফ ইফতেখার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় নিহতের তিন মেয়ে তাহমিনা, সেলিনা ও তারানাও উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট সকালে সিলেট চেম্বারের সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আব্দুস সাত্তারসহ তিনজনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই রাজবাড়ি এলাকা থেকে বাবুল মিয়া (৪০) নামের একজনকে আটক করা হয়। পুলিশ দাবি করে, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে 'প্রেমের সম্পর্কের জেরে' বাবুল একাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন এবং তার দেওয়া তথ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে বাবুল ৪ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

তবে ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশের এই 'প্রেমঘটিত' ব্যাখ্যার দাবি অস্বীকার করে আসছেন নিহত দম্পতির সন্তানরা। তাদের মতে, মূল ঘটনা আড়াল করতেই এমন গল্প সাজানো হচ্ছে। গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নিহত দম্পতির প্রবাসী মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করেন, জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে প্রভাবশালী চক্র ভাড়াটে খুনি দিয়ে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরিফ ইফতেখার বলেন, “আমরা চাই মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন, আবার প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকৃত অপরাধীরাও ছাড় না পায়। পুলিশের তদন্ত সন্তোষজনক না হলে আমরা সিআইডিতে হস্তান্তরের আবেদন জানাব।”

মানসিক বিপর্যয়ের কারণে সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দেননি। একই সাথে তারা নিহতদের লাশ বা বীভৎস ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে সবার প্রতি অনুরোধ জানান।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি