মেহেরপুর প্রতিনিধি: কোমরের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে গিয়ে গ্রাম্য চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় দুই হাত হারাতে বসেছেন ৭০ বছরের বৃদ্ধা বানোয়ারা খাতুন। মেহেরপুর সদর উপজেলার কলাইডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, দীর্ঘদিন কোমর ব্যথায় ভোগা বানোয়ারা খাতুন প্রায় তিন মাস আগে উজলপুর গ্রামের গ্রাম্য চিকিৎসক আঃ গণির কাছে যান। তবে ওই চিকিৎসক কোমরের সঠিক চিকিৎসা না করে বৃদ্ধার দুই হাতে স্টেরয়েড ইনজেকশন দেন। এর দু-তিন দিন পর থেকেই দুই হাত ফুলে আগুনে পোড়ার মতো ফোসকা পড়ে পচন ধরতে শুরু করে।
পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্থানীয়দের সহায়তায় ঢাকা ও রাজশাহীতে চিকিৎসা করিয়ে ইতোমধ্যে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। তবে অর্থের অভাবে এখন চিকিৎসা বন্ধ থাকায় অসহ্য যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
জানা গেছে, উজলপুর গ্রামে 'বর্ষা ড্রাগ হাউজ' পরিচালনা করা আঃ গণি গ্রামে 'ইনজেকশন ডাক্তার' নামে পরিচিত। তিনি নিজেকে নার্ভের চিকিৎসক দাবি করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই রোগীদের স্টেরয়েড ইনজেকশন দিতেন। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে আঃ গণি ইনজেকশন দেওয়ার কথা স্বীকার করে ভবিষ্যতে আর এমন না করার কথা জানান। এ সময় স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা এসে চিকিৎসকের হয়ে সাংবাদিকদের কাছে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেন।
মেহেরপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ সউদ কবীর জানান, অনিয়ন্ত্রিত ও ভুল নিয়মে স্টেরয়েড প্রয়োগের কারণে শরীরে এ ধরনের মারাত্মক পচন ধরতে পারে।
এ বিষয়ে মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম আবু সাঈদ বলেন, গ্রাম্য চিকিৎসকদের অ্যান্টিবায়োটিক বা স্টেরয়েড ইনজেকশন দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি