Print Date & Time : 26 October 2026 Monday 08:52 pm

চট্টগ্রামে 'বাংলা কিউআর' লেনদেন বিষয়ক কর্মশালা

image

অনলাইন ডেস্ক: ​বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি)-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় পরিচালিত 'ক্যাশলেস ডিজিটাল বাংলাদেশ' প্রকল্পের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে 'বাংলা কিউআর' লেনদেন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় রেডিসন ব্লু হোটেল, চট্টগ্রামে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

​কর্মশালায় অন্তত ২০ জন নারী মার্চেন্টসহ প্রায় ১২০ জন 'বাংলা কিউআর' ব্যবহারকারী মার্চেন্ট অংশগ্রহণ করেন। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল সাধারণ গ্রাহক ও মার্চেন্টদের মাঝে ডিজিটাল লেনদেনের বিশেষ করে 'বাংলা কিউআর'-এর সুবিধা ও এর সঠিক ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

​অনুষ্ঠানে বক্তারা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ক্যাশলেস লেনদেনের গুরুত্ব ও 'বাংলা কিউআর'-এর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

​প্রধান কার্যালয়ের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি)-এর প্রতিনিধি হাসান শাহরিয়ার।

​বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইএফসির প্রতিনিধি হাসান শাহরিয়ার বলেন, আমাদের লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে বেশি সাড়া পাচ্ছি। বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেন অগ্রযাত্রা আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর বলেন, বর্তমানে মাসে এক কোটি লেনদেন হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যে দৈনিক এক কোটি লেনদেনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আমরা কাজ করছি। এক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধক হলো বর্তমানে ৬ কোটি মানুষের বাটন ফোন ব্যবহার করা এবং তাদের হাতে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট ও ইন্টারনেট সুবিধা না থাকা। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের স্বল্পমূল্যে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সরবরাহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।

​তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল পেমেন্ট নিশ্চিত হলে ব্যবসায়ীরা কর্মচারীদের ওপর নির্ভরতা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। এতে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে, জাল নোটের ঝুঁকি কমবে এবং নগদ টাকা পরিবহনের ঝুঁকি হ্রাস পাবে। টাকা ছাপানোর বছরে ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়, ডিজিটাল মাধ্যমে পেমেন্ট বাস্তবায়ন হলে এ খরচ সাশ্রয় হবে।

​বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ বলেন, একটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণের জন্য ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিমূলক পেমেন্ট সিস্টেম প্রয়োজন। বাংলা কিউআর এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে দেশে ২৪ লাখ মার্চেন্ট বাংলা কিউআর ব্যবহার করছেন এবং দৈনিক ২ লাখ লেনদেন হচ্ছে, যার আর্থিক পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা। তিনি আরও বলেন, ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধিতে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

হাসান শাহরিয়ার বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল মাসে ২০ লাখ লেনদেন। বর্তমানে ১ কোটি লেনদেন হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মার্চেন্টদের সচেতনার লক্ষ্যে প্রধান কার্যালয়ের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ-১ এর অতিরিক্ত পরিচালক মো. পারওয়েজ আনজাম মুনির, যুগ্ম পরিচালক জুয়েল মজুমদার ও মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন তিনটি সেশন পরিচালনা করেন। উক্ত সেশনে বাংলা কিউআর এর ব্যবহার পদ্ধতি, সুবিধা, প্রয়োজনীয়তা, সচেতনার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। পরে গভর্নর বাংলা কিউআর ব্যবহার সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা, ক্রস বর্ডার পেমেন্ট সিস্টেমস চালু, চার্জ কমানোসহ নানা বিষয়ে মার্চেন্টদের বিভিন্ন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন।

​অনুষ্ঠানের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, কর্মশালাটি ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী ও সর্বজনীন করার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

​কর্মশালায় বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম অফিসের নির্বাহী পরিচালক মো. হানিফ মিয়া, চট্টগ্রাম অফিসের পরিচালক (প্রশাসন) স্বরূপ কুমার চৌধুরী, পরিচালক (পরিদর্শন) মো. নুরুল আলম, পরিচালক (ব্যাংকিং) ইয়াসমিন রহমান বুলা, পরিচালক (বৈদেশিক মুদ্রা) মাহবুবুল রহমান এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও 'বাংলা কিউআর' বাস্তবায়ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
​
—জা.অর্থনীতি/আইবিএম