মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: অনিয়ন্ত্রিত দ্রব্যমূল্যের আগুনে পুড়ছে নিম্ন আয়ের মানুষের সংসার। স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর আমিষের চাহিদার শেষ ভরসা ছিল ব্রয়লার মুরগি। তবে দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে সেই ব্রয়লার মুরগিও এখন তাদের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক পরিবার এখন মাংসের বদলে কিনছেন মুরগির পা, মাথা, গিলা ও কলিজা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে জেলার বিভিন্ন বাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। এ ছাড়া সোনালী কক ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা এবং লাল মুরগি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রতি কেজি মুরগির পা ও মাথা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৩০ টাকায়।
আস্ত মুরগি কেনার সামর্থ্য না থাকায় বাজারের এক কোণে দাঁড়িয়ে পলিথিনে করে পা-মাথা কিনতে দেখা গেছে অনেক রিকশাচালক, দিনমজুর ও গৃহকর্মীকে।
শমশেরনগর বাজারের ঠেলাগাড়ি চালক রফিক মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, "গত এক মাসে একটা আস্ত মুরগি কিনতে পারিনি। বাচ্চাদের জন্য মাঝে মধ্যে ১২০ টাকা কেজি দরে পা-মাথা কিনে আনি। আমাদের জন্য এখন এটাই বিলাসিতা।"
বিক্রেতারা জানান, অনেক ক্রেতা আস্ত মুরগি কিনে চামড়া ও পা-মাথা রেখে যান। সেগুলো জমিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষদের কাছে কেজি দরে বিক্রি করা হয়। পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকায় খুচরাতে কমানোর সুযোগ নেই বলে দাবি তাদের।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন জানান, বাজারে অন্যায্যভাবে দাম বাড়ানো ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তাদের নিয়মিত তদারকি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে পুষ্টিবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, পা ও মাথায় প্রোটিন কম এবং চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে। ব্রয়লারের অতিরিক্ত দামের কারণে স্বল্প আয়ের শিশু ও গর্ভবতী নারীদের মাঝে প্রোটিনের ঘাটতি তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি