Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 09:28 am

হঠাৎ কেন ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি চাইছে সিরিয়া?

image

অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বৈরিতা কাটিয়ে এবার কি তবে ইসরায়েলের সাথে কোনো নিরাপত্তা চুক্তিতে যাচ্ছে সিরিয়া? মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এমন এক অবিশ্বাস্য মোড়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। একাধিক দেশের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সাথে একটি নিরাপত্তা চুক্তিতে পৌঁছাতে দামেস্ক সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে তিনি নিজে নিশ্চিত করেছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় এসে এমন ঘোষণা দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে এখন তীব্র গুঞ্জন ও প্রশ্ন- হঠাৎ কেন এই পরিবর্তন?

আল-জাজিরার বিশেষ অনুষ্ঠান 'আল মুকাবালা'-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট শারা জানান, এই চুক্তিটি মূলত একটি সার্বিক ও স্থায়ী শান্তির দ্বার উন্মোচন করতে পারে। তবে এটি সিরিয়ার ঐতিহাসিক অবস্থানকে ক্ষুণ্ণ করবে না। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ১৯৭১ সাল থেকে ইসরায়েলের অবৈধভাবে দখল করে রাখা 'গোলান মালভূমি'র ওপর সিরিয়ার সার্বিক অধিকার বিন্দুমাত্র কমবে না। ২০২৪ সালের শেষভাগ থেকে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলি বাহিনীর ক্রমাগত হামলা ও অনুপ্রবেশের পটভূমিতেই এই সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শুধু নিজ দেশ নয়, প্রতিবেশী লেবানন সংকট নিয়েও মুখ খুলেছেন সিরীয় প্রেসিডেন্ট। সিরিয়া ফের লেবাননে সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে- এমন গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে তিনি জানান, সেখানে কোনো সামরিক অভিযানের ইচ্ছা দামেস্কের নেই। বরং ইসরায়েলি দখলদারিত্ব ও হিজবুল্লাহর সাথে সংঘাতের মুখে থাকা বৈরুতকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। শারা স্পষ্ট করেন, যুদ্ধ বা শান্তির সিদ্ধান্ত কেবল লেবানন সরকারের হাতেই থাকা উচিত। আর এই অঞ্চলে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।

সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ সংকট প্রসঙ্গে শারা জানান, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তোলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক 'সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক' তালিকা থেকে সিরিয়ার নাম বাদ না দিলে দেশটির অর্থনীতি সচল হবে না। অন্যদিকে, কুর্দি নেতৃত্বাধীন 'সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস' বা এসডিএফ-এর সাথে অভ্যন্তরীণ চুক্তির বিলম্ব হলেও সরকার এতে শতভাগ অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানান তিনি।

সবশেষে, ২০১১ থেকে ২০২৪ সালের গৃহযুদ্ধে গুম বা নিখোঁজ হওয়া আনুমানিক ১ থেকে ৩ লাখ মানুষের সন্ধানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন শারা। মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সিরিয়ার এই নতুন কূটনৈতিক কৌশল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাবে, নাকি নতুন কোনো বিতর্কের জন্ম দেবে—তা সময়ই বলে দেবে।