Print Date & Time : 27 October 2026 Tuesday 10:57 pm

ডিএসসিসির ৪ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

image

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এবারের বাজেটে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতা ব্যয় বাবদ ৩২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ৮০.৩৮ কোটি টাকা। 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর নগরভবনের অডিটোরিয়ামে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এ বাজেট ঘোষণা করেন।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডিএসসিসির মূল বাজেট ছিল ৩,৮৪১.৩৮ কোটি টাকা, যা সংশোধিত হয়ে দাঁড়ায় ৩,১৩৮.৭৭ কোটি টাকায়। সে হিসাবে নতুন বাজেট আগের বছরের মূল বাজেটের তুলনায় প্রায় ৪.৩ শতাংশ এবং সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ২৭.৬ শতাংশ বেশি।

প্রস্তাবিত বাজেটে প্রারম্ভিক স্থিতিসহ মোট প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪,০০৪.৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রারম্ভিক স্থিতি ৭৩০.৯৩ কোটি টাকা, রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ১,৮১৫.৭৪ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন খাতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ১,৪৫৭.৯৩ কোটি টাকা। ব্যয়ের মধ্যে পরিচালন ও মূলধন ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৫৫৯.৬৮ কোটি টাকা, উন্নয়ন ব্যয় ১,৯০৪.৪২ কোটি টাকা এবং সমাপনী স্থিতি ৫৪০.৫০ কোটি টাকা।

বাজেট বক্তৃতায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথক কোনো সমন্বিত বরাদ্দের অঙ্ক উল্লেখ না থাকলেও এ খাতের আওতায় একাধিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) স্যানিটেশন সুবিধায় রূপান্তর, মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে "রিসোর্স সার্কুলেশন পার্কে" রূপান্তর এবং একটি আধুনিক কম্পোস্ট প্ল্যান্ট স্থাপন।

এছাড়া পরিচ্ছন্নতা ব্যয় বাবদ ৩২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ৮০.৩৮ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ৪ গুণ বেশি।

অবকাঠামো উন্নয়নেও বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নের জন্য ৮০৬.৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক ও মহাসড়ক উপখাতেই বরাদ্দ ৫২৬.৬০ কোটি টাকা। এছাড়া সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে (ডিপিপিভুক্ত) বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫৫৪.৮৪ কোটি টাকা।

স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতেও বরাদ্দ বেড়েছে। স্বাস্থ্য ব্যয় বাবদ ১২১.৬৬ কোটি টাকা, হাসপাতাল ও মাতৃত্বসেবা খাতে ৪.২৬ কোটি টাকা এবং সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়নে ৩৪.৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাধারণ ও সংস্থাপন ব্যয় বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯৬৫.৭১ কোটি টাকা।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে কর খাত থেকে ৯৪১.০৯ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা মোট রাজস্ব আয়ের প্রায় ৫২ শতাংশ।

বাজেট বক্তৃতায় প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, নাগরিকদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা না চাপিয়ে নতুন রাজস্ব উৎস সৃষ্টি এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর মাধ্যমে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক ও ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে "ক্লিন সিটি-গ্রিন সিটি" বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই বাজেটটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

নগরবাসীর উদ্দেশে প্রশাসক বলেন, এই বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং করদাতাদের প্রতি অর্পিত পবিত্র দায়িত্ব ও আস্থার প্রতিফলন। বাজেট বাস্তবায়নে সরকার, স্থানীয় সরকার বিভাগ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ, ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও নগরবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

—জা. অর্থনীতি/এনজে