Print Date & Time : 21 October 2026 Wednesday 07:30 pm

টিসিবির লাইনে দাঁড়িয়ে মৃত্যু তদন্তে কমিটি

image

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুর-২ এলাকায় মিরপুর কলেজের পেছনের সীমানা প্রাচীর ধসে পড়ে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে পণ্য কিনতে আসা সাধারণ মানুষের ওপর। এ ঘটনায় নারীসহ দুজন নিহত এবং অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রাজউক, গণপূর্ত অধিদপ্তর ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে ডিএনসিসি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে মিরপুর-২ নম্বর এলাকার কলেজটির পেছনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে টিসিবির সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্য বিক্রি চলছিল। পণ্য সংগ্রহের জন্য মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পণ্য বিক্রির মধ্যে হঠাৎ করেই কলেজের সীমানা প্রাচীরটি ধসে পড়ে পণ্য ক্রয়ের উদ্দেশ্যে আসা মানুষদের ওপর। মুহূর্তেই দেয়ালের নিচে চাপা পড়েন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নারী-পুরুষসহ বেশ কয়েকজন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়।

প্রথমে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে মিরপুর-২ এলাকার জনতা হাউজিংয়ের বাসিন্দা নাছিমা বেগমকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে হাফিজুর রহমান নামে আরও একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া যায়। নিহত হাফিজুর রহমানের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম জানান, কলেজের পেছনের একটি বড় বাউন্ডারি দেয়াল ধসে পড়ে। সে সময় ফুটপাত দিয়ে চলাচলকারী এবং টিসিবির পণ্য সংগ্রহের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন হতাহত হন। ওই স্থানের পাশেই টিসিবির মালামাল ট্রাক থেকে বিতরণ করা হচ্ছিল।

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, দেয়াল ধসের ঘটনায় দুজন নিহত এবং অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। কী কারণে প্রাচীরটি ধসে পড়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তদন্তে তিন সংস্থার কমিটি
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। এ সময় তিনি জানান, রাজউক, গণপূর্ত অধিদপ্তর ও সিটি করপোরেশনের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়। আজকের এই ঘটনার জন্য আমি অত্যন্ত মর্মাহত। প্রশাসকের দাবি, ২০১৪ সালে নির্মিত ওই সীমানা প্রাচীর নির্মাণে প্রয়োজনীয় মান বজায় রাখা হয়নি। তার ভাষ্য, দেয়ালটিতে আরসিসি ব্যবহার করা হয়নি। শুধু ইটের গাঁথুনি দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এ কারণেই এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে।

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে অবশিষ্ট দেয়ালগুলো শক্তিশালী ও নিরাপদভাবে পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, টিসিবির পণ্য সংগ্রহ করতে এসে যারা আহত হয়েছেন, তাদের আর্থিক সহায়তার চেষ্টা করা হবে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আহতদের হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার পর কলেজের পুরোনো অবকাঠামোর নিরাপত্তা, জনসমাগমপূর্ণ স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ দেয়াল এবং টিসিবির পণ্য বিতরণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে নিহতদের স্বজন এবং এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, শুধু তদন্ত নয়, দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

—জা.অর্থনীতি/আইবিএম