বিনোদন ডেস্ক: শেষ হলো ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও জমজমাট আসর বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল মানেই পৃথিবীর অন্যতম বড় ক্রীড়া আসরের শেষ মহারণ। কোটি কোটি দর্শক টেলিভিশনের সামনে বসে থাকেন সেই মুহূর্তের অপেক্ষায়। কিন্তু ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল শুধু স্পেনের শিরোপা জয়ের জন্য নয়, আরেকটি কারণে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে—প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে আয়োজন করা হয় সুপার বোলের আদলে একটি জাঁকজমকপূর্ণ হাফটাইম শো। আর সেই মঞ্চে একসঙ্গে হাজির হন পপসংগীতের কিংবদন্তি ম্যাডোনা, লাতিন তারকা শাকিরা, কানাডীয় গায়ক জাস্টিন বিবার, বিশ্বজোড়া জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস, সঙ্গে ছিলেন জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘টেড ল্যাসো’র তারকা জেসন সুডেইকিস ও ব্রেন্ডন হান্ট। এমনকি শিশুদের প্রিয় চরিত্র ‘দ্য মাপেটস’ও ছিল অনুষ্ঠানের অংশ।
কিন্তু এই ঐতিহাসিক পরিবেশনার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ফি দেওয়া হয়নি তাদের। বলা হচ্ছে, এই পারিশ্রমিক প্রাপ্তির চেয়ে বিশ্বব্যাপী বিপুল পরিচিতি ও ব্যবসায়িক সুবিধাকেই তাদের প্রধান প্রাপ্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ১৯ জুলাই স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচের বিরতিতে আয়োজিত এই সুপার বোল ধাঁচের শোতে অংশ নেওয়া তারকাদের নির্দিষ্ট কোনো ফি দেওয়া হয়নি। এনএফএল ‘সুপার বোল’ হাফটাইম শোয়ের অনুকরণেই মূলত ফিফা এই নীতি গ্রহণ করে। যেখানে তারকাদের পারিশ্রমিকের পরিবর্তে পুরো পরিবেশনার প্রযোজনা, মঞ্চ প্রস্তুত ও অন্যান্য লজিস্টিকস খরচ বহন করে আয়োজক সংস্থা। তবে রিহার্সাল চলাকালীন অংশ নেওয়া শিল্পীদের সামান্য পরিমাণ দৈনন্দিন ভাতা প্রদান করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিশ্বজুড়ে শতকোটি দর্শকের সামনে সরাসরি পারফর্ম করার এই সুযোগ আন্তর্জাতিক তারকাদের জন্য বিশাল বাণিজ্যিক দরজা খুলে দেয়। সাধারণত, এমন বড় মঞ্চে পারফর্ম করার পর সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের গান বিক্রি, ডিজিটাল স্ট্রিমিং ও সোশাল মিডিয়ায় অনুরাগী বৃদ্ধির হার কয়েক গুণ বেড়ে যায়। আগের বিশ্বকাপগুলোতেও শিল্পীরা একই নীতিতে পারফর্ম করেছিলেন, যা পরবর্তীতে তাদের সংগীতে ব্যবসায়িক সফলতা এনে দেয়।
ফিফার বর্ধিত বিনোদন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত প্রায় ১১ মিনিটব্যাপী এই জমকালো শোতে একই সাথে চার আন্তর্জাতিক সংগীত তারকার পারফরম্যান্স তুলে ধরা হয়। ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মঞ্চে দ্রুতগতির ও উদ্ভাবনী মঞ্চায়নের মাধ্যমে চার শিল্পীর গান উপভোগ করেন বিশ্বজুড়ে থাকা কোটি কোটি দর্শক।
—জা. অর্থনীতি/এনএ