Print Date & Time : 24 October 2026 Saturday 01:27 am

বর্ষায় ঘুরে আসুন মৌলভীবাজারের ৯৩ চা বাগান

image

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: এই বর্ষায় যদি চা পান করতে করতে চা বাগান দেখতে চান, তাহলে ঘুরে আসুন চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল থেকে। কারণ বছরে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয় এখানেই। আর বৃষ্টির ছোঁয়ায় শ্রীমঙ্গলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বেড়ে যায় কয়েকগুণ।

শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় মাটি আর্দ্রতা হারায়। চা গাছগুলো শুকিয়ে যায়, পাতা লাল হয়ে মরে যায়। কিন্তু বর্ষার শুরুতেই চা গাছগুলো সজীব হয়ে ওঠে। নতুন করে দুটি পাতা ও একটি কুড়ি ফোটে। এই টাটকা সবুজ দৃশ্যই ভ্রমণপিপাসুদের সবচেয়ে বেশি টানে।

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সভাপতি সেলিম আহমেদ বলেন, বর্ষা মৌসুমে সাধারণ সময়ের চেয়ে বেশি পর্যটক আসেন। অনেকে শুধু রিসোর্টে বসে বৃষ্টি দেখে চা পান করতেই আসেন। বর্ষায় প্রকৃতির রূপটা এখানে চমৎকার হয়।

বাংলাদেশের মোট ১৬৮টি চা বাগানের মধ্যে ৯৩টিই মৌলভীবাজারে। জেলার ৭টি উপজেলার প্রত্যেকটিতেই চা বাগান আছে। 
 
সবচেয়ে বেশি ৪০টি বাগান শ্রীমঙ্গলে, এরপর ২টি কমলগঞ্জে। এ কারণেই মৌলভীবাজারকে বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী বলা হয়।

জেলার প্রতিটি চা বাগানই দৃষ্টিনন্দন। অনেক বাগানের ভেতরে আছে জলমগ্ন লেক। বর্ষায় সেই লেকের পানিতে সবুজ চা বাগানের প্রতিচ্ছবি, মেঠোপথ আর মেঘলা আকাশ—সব মিলিয়ে অন্যরকম এক পরিবেশ তৈরি হয়।

এছাড়া ৯৩টি বাগানে প্রায় ৮০টি চা কারখানা আছে। বর্ষা মৌসুমে এসব কারখানায় ২৪ ঘণ্টা চা উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত চলে। পর্যটকরা চাইলে কারখানা ঘুরে দেখতে পারেন কীভাবে পাতা থেকে চা তৈরি হয়।

১৮৫৪ সালে সিলেটের মালনীছড়া চা বাগান দিয়ে দেশে চা শিল্পের যাত্রা। বাণিজ্যিক রূপ নেয় ১৮৫৭ সালে। সিলেট-চট্টগ্রামে জন্ম হলেও সবচেয়ে বেশি বিস্তার ঘটে মৌলভীবাজারেই।

এই রাজধানীকে সমৃদ্ধ করেছে উপমহাদেশের সবচেয়ে পুরাতন চা গবেষণা কেন্দ্র। ১৯৫৭ সালে পাকিস্তান চা বোর্ড শ্রীমঙ্গলে স্টেশনটি স্থাপন করে। ১৯৭৩ সালে এটি বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট-বিটিআরআই হিসেবে উন্নীত হয়। সারাবছর পর্যটক এলেও বর্ষায় ভিড় আরও বাড়ে।

এক কাপে সাত রঙের চা, শ্রীমঙ্গলের নীলকণ্ঠ টি কেবিন বিখ্যাত এই চায়ের জন্য। ৭টি স্তর, সাত রকম স্বাদ ও রং। উদ্ভাবক রমেশ রাম গৌড়। দেশি-বিদেশি চাপ্রেমীরা এটা খেতেই ছুটে আসেন। 

বৃষ্টিভেজা চা বাগান, নরসিংদী থেকে আসা পর্যটক জালাল আহমেদ বলেন, বর্ষায় চা বাগানের পাশাপাশি কারখানায় উৎপাদন দেখা যায়। চা পান করতে করতে বৃষ্টিভেজা পাতা দেখার মজাই আলাদা।

রিসোর্টে প্রকৃতি গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্টের জেনারেল ম্যানেজার আরমান খান বলেন, এখানকার প্রাণপ্রকৃতি অনেক চমৎকার। বর্ষায় চা বাগানগুলো দেখতে সবচেয়ে সুন্দর লাগে।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি ট্রেনে শ্রীমঙ্গল, ভানুগাছ, শমশেরনগর ও কুলাউড়া স্টেশনে নেমে সিএনজি বা রিকশায় করে বাগানে পৌঁছানো যায়। সড়কপথে দেশের যেকোনো জায়গা থেকে বাসে শ্রীমঙ্গল বা মৌলভীবাজার শহরে নেমে লোকাল বাস অথবা সিএনজি বা অটোতে করে বাগানে যেতে হয়।

ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, বর্ষায় সৌখিন পর্যটক বেশি আসেন। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য আমরা সবসময় প্রস্তুত।

—জা. অর্থনীতি/এনজে