আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কানাডাজুড়ে ভয়াবহ দাবানলের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলীয় কয়েকটি রাজ্যে বায়ুর মান মারাত্মকভাবে খারাপ হয়ে গেছে। দেশটিতে বর্তমানে ৮৫০টির বেশি দাবানল সক্রিয় রয়েছে, যার ধোঁয়া সীমান্ত পেরিয়ে নিউইয়র্ক, শিকাগো, ডেট্রয়েট, টরন্টোসহ বড় শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় ‘অস্বাস্থ্যকর’ থেকে ‘বিপজ্জনক’ পর্যায়ের বায়ু দূষণ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ধোঁয়ার কারণে অনেক জায়গায় বাইরের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে, শিশুদের ক্যাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে এবং মানুষকে ঘরের বাইরে কম বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল পরিস্থিতিকে “গুরুতর স্বাস্থ্য সংকট” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, রাজ্যের অনেক এলাকায় ঘন ধোঁয়ার কারণে বাইরে থাকা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শহরজুড়ে জরুরি পরিকল্পনা চালু করে বাসিন্দাদের জন্য মাস্ক ও শীতলকেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কানাডার অন্টারিও প্রদেশের উত্তরাঞ্চলের দাবানল থেকে সবচেয়ে বেশি ধোঁয়া ছড়াচ্ছে। সেখানকার কয়েকটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একটি এলাকার প্রধান জানিয়েছেন, আগুনে তাদের পুরো সম্প্রদায় প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বহু বাড়িঘর পুড়ে গেছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিন উত্তর-পশ্চিম দিকের বাতাসের কারণে কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলে প্রবাহিত হতে পারে। তবে বাতাসের গতিপথ পরিবর্তন হলে দক্ষিণাঞ্চলে বায়ুর মান কিছুটা উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কানাডায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দাবানলের সংখ্যা ও তীব্রতা বেড়েছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও শুষ্ক আবহাওয়া আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, দাবানল মোকাবিলায় প্রাদেশিক সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে তার সরকার। অন্যদিকে, অন্টারিওর প্রশাসন জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে শতাধিক দমকলকর্মী মাঠে কাজ করছেন।
জা.অর্থনীতি/এসআই