Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 04:02 pm

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণে দায় এড়ানোর চেষ্টা

image

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশদ্বারে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর ও ভাস্কর্যটি রহস্যজনকভাবে ভেঙে ফেলা হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে শ্রমিকদের এই স্থাপনাটি ভাঙতে দেখা গেলেও এর পেছনে কারা রয়েছে বা কী উদ্দেশ্যে এই কাজ করা হচ্ছে—তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কোনো কর্তাব্যক্তিই স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারছেন না। 

সরেজমিনে দেখা যায়, চত্বরটি ভেঙে ফেলার কাজ চললেও নিয়োজিত শ্রমিকেরা সরাসরি কোনো সদুত্তর না দিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের দিকে আঙুল তুলছেন। তবে ঝিনাইদহ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ আলী খান বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ঘটনার দায় এড়াচ্ছে জেলা প্রশাসন, সড়ক বিভাগ ও জেলা পরিষদও। ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানান, জেলা প্রশাসন এই স্থাপনাটি ভাঙছে না; তবে তার দায়িত্ব গ্রহণের অনেক আগে থেকেই ভাস্কর্যটি সরিয়ে নেওয়ার একটি সিদ্ধান্ত ছিল, যা সম্ভবত সড়ক বিভাগ বা পৌরসভা বাস্তবায়ন করছে। 

অন্যদিকে, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান এ বিষয়ে তার অজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। আবার জেলা পরিষদের প্রশাসক এম মাজিদ জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ভাস্কর্যটি একাধিকবার ভাঙচুরের শিকার হয় এবং এটি সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল; তবে বর্তমানে এই ভাঙার কাজটি কারা পরিচালনা করছে, তা তার জানা নেই। এমনকি সংসদ অধিবেশনের কারণে ঢাকায় থাকায় এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে উল্লেখ করেছেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু বকর।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে ঝিনাইদহ পৌরসভা শহরের প্রবেশমুখে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মরণে এই চত্বর নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রকল্পটি কাঙ্ক্ষিত রূপ পায়নি। দেশের এই অকুতোভয় বীরের স্মৃতিচিহ্ন এভাবে রহস্যজনকভাবে মুছে ফেলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজারের ধলাই সীমান্তঘাঁটি দখলের লড়াইয়ে শহীদ হওয়া সিপাহী হামিদুর রহমানের জন্ম ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে। দেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত এই জাতীয় বীরের স্মৃতিস্তম্ভ এভাবে না জানিয়ে ভেঙে ফেলা অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি