Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 04:38 pm

তলিয়ে গেছে রাঙামাটির ৩০ গ্রাম, সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

image

রাঙামাটি প্রতিনিধি: টানা ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটি জেলার বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। জেলার নিম্নাঞ্চলের অন্তত ৩০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন প্রায় ৭ হাজার পরিবারের অন্তত ২০ হাজার মানুষ। 

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যার পানি আরও নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ও নতুন সতর্কতা 
রাঙামাটি আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বেলা ১২টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ৬০ ঘণ্টায় জেলায় ৪৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। 

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর নতুন করে ৯ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত আরও ২০০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে, যার ফলে পাহাড়ি এলাকায় উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিধসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বাঘাইছড়িতে ভয়াবহ পরিস্থিতি ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ 
বন্যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলায়। পাহাড়ি ঢলে নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই উপজেলার ৩০টি গ্রাম এখন পানির নিচে। 

ইতোমধ্যে সেখানে ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ৮০৭টি পরিবারের ৩ হাজার ২৪৮ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

পানির নিচে তলিয়ে গেছে বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা ও লংগদু-দীঘিনালা সড়কসহ উপজেলার অভ্যন্তরীণ বেশ কিছু রাস্তাঘাট। 

এছাড়া বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়কের প্রায় ৩ কিলোমিটার অংশ জুড়ে পাহাড়ধসের কারণে ওই রুটে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

বিলাইছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
বাঘাইছড়ির পাশাপাশি বিলাইছড়ি উপজেলার কোংড়াছড়ি, তক্তানালা, এগুইজ্জেছড়ি ও ফারুয়া বাজারসহ বেশ কিছু নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। 

উপজেলার ৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ১২২ জন মানুষ অবস্থান করছেন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সকালের নাশতা এবং দুপুর ও রাতে রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

১০৪ স্থানে পাহাড়ধস, প্রশাসনের জরুরি প্রস্তুতি
জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত জেলার ৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ৪ হাজার ৩৯২ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। পুরো জেলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১০৪টি স্থানে ছোট-বড় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। 

এর আগে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাপছড়ি এলাকায় পাহাড়ধস হলে আড়াই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকার পর সড়কের এক পাশ দিয়ে সীমিত আকারে যোগাযোগ সচল করা হয়।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢাল ও নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। 

যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সমন্বিতভাবে মাঠে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। 

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ