Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 09:07 am

ইরানের তেল বিক্রির অনুমতি বাতিল করলো যুক্তরাষ্ট্র

image

অনলাইন ডেস্ক: ইরানের তেল বিক্রির অনুমতি দিয়ে জারি করা সাধারণ লাইসেন্স বাতিল করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। হরমুজ প্রণালীতে তিনটি বাণিজ্যিক তেল ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনার পরপরই মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ শাস্তিমূলক এই পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটির অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর। এতে বলা হয়, ৭ জুলাই ২০২৬ থেকে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা সাধারণ লাইসেন্স ‘এক্স’ বাতিল করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ‘যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।’

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে কাতার-সংশ্লিষ্ট একটি জাহাজে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। কাতারের অভিযোগকে ‘বিস্ময়কর’ বলে মন্তব্য করেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।

তার ভাষ্য, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ বিষয়ে কার্যকর সমঝোতা স্মারকের আওতায় নিজেদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে তারা।

ইসমাইল বাঘাই আরও জানান, হরমুজ প্রণালিতে যেসব বাণিজ্যিক জাহাজ সমন্বয়হীন রুট ব্যবহার করে বা জাহাজের অবস্থান শনাক্তকারী ব্যবস্থা পরিবর্তন করে, তারাই নিজেদের ফেলছে ঝুঁকির মুখে। সেইসঙ্গে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের প্রচেষ্টাকেও বাধাগ্রস্ত করছে তারা। আঞ্চলিক দেশ ও জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের বিধানের পরিপন্থী কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান করেন তিনি।

এর আগে হরমুজ প্রণালিতে সোমবার ও মঙ্গলবার পৃথক হামলায় তিনটি তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা। হামলায় একটি জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং বাকি দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

সংস্থাটি বলছে, প্রথম হামলার শিকার হয় কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জাহাজ আল রেকাইয়াত। ওমানের লিমাহ উপকূলের কাছে ওমান উপসাগরের দিকে যাওয়ার সময় জাহাজটিতে আঘাত হানা হয়। পরে আরও দুটি জাহাজ পৃথক হামলার মুখে পড়ে। এর মধ্যে একটি জাহাজে ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্য জাহাজটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের ওপর ‘অগ্রহণযোগ্য হামলা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর জন্য ইরানকে ‘সম্পূর্ণ আইনিভাবে দায়ী’ করেছে কাতার।

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ