Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 06:18 am

শিল্প দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চট্টগ্রাম বন্দরে আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ

image

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: শিল্প দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং বন্দর পরিচালনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে চট্টগ্রাম বন্দরে দুই দিনের শিল্প নিরাপত্তাবিষয়ক আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় পরিচালিত বৈশ্বিক বন্দর নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সোমবার (২৯ জুন) বন্দরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে। প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ, ফ্রান্স, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার মোট ২০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করছেন। 

অনুষ্ঠানে কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, শিল্প নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা সময়ের দাবি। এই প্রশিক্ষণ বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে সহায়তা করবে।

অন্যদিকে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত বলেন, এই উদ্যোগ অংশগ্রহণকারীদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে শিল্প দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছেন আন্তর্জাতিক শিল্প নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অলিভিয়ে সালভি। এতে তেল শোধনাগার, তরলীকৃত গ্যাস সংরক্ষণাগার, রাসায়নিক স্থাপনা ও অন্যান্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধ কৌশল বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। 

প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে উন্নত পরিস্থিতি অনুকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরণ ও বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণের মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা মোকাবিলার অনুশীলন করানো হবে। পাশাপাশি স্থানীয় তেল টার্মিনাল ও গ্যাস স্থাপনা পরিদর্শনের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও পাবেন অংশগ্রহণকারীরা। 

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বন্দর পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধি, শিল্প দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা তৈরিই এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং আঞ্চলিক বন্দরগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

—জা.অর্থনীতি/এনজে