Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 03:52 pm

পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হচ্ছে আজ: রেকর্ড গড়ার প্রত্যাশা

image

দীর্ঘ ছয় মাস পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হচ্ছে। শনিবার (২৭ জুন) সকাল জেলা প্রশাসনের কঠোর তত্ত্বাবধানে মসজিদের ১৩টি সিন্দুক খোলার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সবশেষ গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছিল। ওই সময় ১৩টি সিন্দুক থেকে ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া গিয়েছিল। গণনার পর মোট টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। এছাড়া বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা ও নানা ধরণের পণ্য সামগ্রী পাওয়া গিয়েছিল। সাধারণত তিন থেকে চার মাস অন্তর সিন্দুকগুলো খোলা হলেও এবার ছয় মাস পর তা খোলা হচ্ছে। ফলে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাগলা মসজিদ সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের কাছে এক পবিত্র ও সার্বজনীন ধর্মীয় স্থান হিসেবে পরিচিত। ভক্তদের বিশ্বাস, একনিষ্ঠ মনে এই মসজিদে দান করলে মনের বাসনা পূরণ হয়। রোগমুক্তি, উচ্চ শিক্ষা, সন্তান লাভ ও ব্যবসায়িক সফলতাসহ বিভিন্ন নিয়তে মানুষ এখানে প্রচুর অর্থ ও সামগ্রী মানত করে থাকেন। টাকা-পয়সার পাশাপাশি অনেকে গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি ও স্বর্ণালংকার দান করেন।

মসজিদের ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াইশো বছর আগে পাগলবেশী এক আধ্যাত্মিক সাধক নরসুন্দা নদীর বুকে মাদুরে ভেসে বর্তমান মসজিদের স্থানে এসে অবস্থান নেন। তার মৃত্যুর পর সমাধির পাশে এই মসজিদটি নির্মিত হয়, যা বর্তমানে পাগলা মসজিদ নামে দেশজুড়ে সুপরিচিত। ১৯৭৯ সালের ১০ মে থেকে ওয়াকফ স্টেটের মাধ্যমে ঐতিহাসিক এই মসজিদটি পরিচালিত হয়ে আসছে।

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ